হামলা ও আহত নিয়ে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশের প্রধান কার্যালয়ের সামনে এস আলমের সময়ে নিয়োগ পাওয়া চাকরিচ্যুতদের সঙ্গে ‘সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর সদস্যদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন বলে তারা দাবি করেছেন।
সোমবার সকাল সাড়ে ৭টার দিকে চাকরিচ্যুতরা তাদের পুনর্বহালের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো ব্যাংকের সামনে জড়ো হন। একই সময়ে সেখানে বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করছিলেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, একপর্যায়ে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। পরে তারা একে অপরকে ধাওয়া করেন।
চাকরিচ্যুত শহিদুল ইসলাম দাবি করেন, হামলায় তাদের ২৫ জন সদস্য আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, চাকরিতে পুনর্বহালের দাবিতে তারা শান্তিপূর্ণভাবে ব্যাংকের সামনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। সেখানে আসার প্রায় ২০ মিনিট পর সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা তাদের ওপর হামলা চালান। পরে পুলিশ এসে তাঁদের সেখান থেকে সরিয়ে দেয়। আহত ২০ থেকে ২৫ জন কর্মীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।
তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নূর উদ্দিন নবী মানিক। তিনি দাবি করেন, তাদের প্রায় ৩০ জন সদস্য আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে পাঁচজনের অবস্থা গুরুতর। তিনি অভিযোগ করেন, শান্তিপূর্ণভাবে বিক্ষোভ করার সময় চাকরিচ্যুতরা তাদের ওপর হামলা চালান।
অধ্যাপক নূর উদ্দিন নবী মানিক বলেন, যাদের অবৈধভাবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, তাদের সঙ্গে ব্যাংকের কোনো সম্পর্ক নেই। তারা ব্যাংকে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির চেষ্টা করছেন। পুলিশের উপস্থিতিতেই তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
কর্মসূচি চলাকালে একপর্যায়ে সংবাদ সম্মেলন করে অধ্যাপক নূর উদ্দিন নবী মানিক বলেন, হামলার ঘটনায় সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এবং গণমাধ্যমকর্মীদের ধারণ করা ভিডিও বিশ্লেষণ করে জড়িতদের শনাক্ত করতে হবে। পরে তাদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।
ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরামের নেতারা বলেন, গ্রাহকদের আমানতের নিরাপত্তা ও ব্যাংকের সুশাসন নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত তাদের নিয়মতান্ত্রিক কর্মসূচি অব্যাহত থাকবে।



