কারাগারে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে মারধরের অভিযোগ সত্য নয়

কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১-এ বন্দি আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে মারধরের অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বিভ্রান্তিমূলক বলে জানিয়েছে কারা অধিদপ্তর। স¤প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি কনটেন্টে দাবি করা হয়, কারাগারের কয়েদি বা হাজতিদের দ্বারা জঙ্গিবাদের প্রসঙ্গ তুলে আতাউরকে মারধর করা হয়েছে।

তবে কারা কর্তৃপক্ষ বলছে, বাস্তবে এমন কোনো ঘটনাই ঘটেনি। গতকাল বৃহস্পতিবার (২৫ ডিসেম্বর) কারা অধিদপ্তরের এআইজি (উন্নয়ন) মো. জান্নাত-উল ফরহাদ এ তথ্য জানান।

তিনি জানান, আতাউর রহমান বিক্রমপুরী বর্তমানে কারাগারে সম্পূর্ণ নিরাপদে আছেন এবং তিনি সুস্থ রয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারিত তথ্যটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও অপপ্রচারমূলক। একটি চক্র দেশজুড়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি ও বিভ্রান্তি ছড়ানোর লক্ষ্যে এ ধরনের গুজব ও প্রোপাগান্ডা চালিয়ে যাচ্ছে।
এ ধরনের বিভ্রান্তিকর তথ্য ও অপপ্রচার থেকে সবাইকে সচেতন থাকার জন্য গণমাধ্যমকর্মীসহ সাধারণ জনগণের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়েছে।

উল্লেখ্য, গাজীপুর মেট্রোপলিটন পুলিশ কর্তৃক তিন মাসের ডিটেনশন আদেশে ডিটেন্যু বন্দি হিসেবে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গতকাল বুধবার (২৪ ডিসেম্বর) গাজীপুর কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-১ এ হস্তান্তর করা হয়।এর আগে, গত ২৩ ডিসেম্বর দিবাগত রাতে নরসিংদী থেকে আতাউর রহমান বিক্রমপুরীকে গ্রেফতার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।

কে এই আতাউর রহমান বিক্রমপুরী

আতাউর রহমান বিক্রমপুরী,যিনি আসাদুল্লাহ বা আতাউর নামেও পরিচিত অ মুন্সিগঞ্জের টংগীবাড়ী উপজেলার আমতলী গ্রামের সন্তান। তিনি যশোরের ঝিকরগাছায় অবস্থিত মারকাজুল হুনাফা আল মুসলিমিন মাদ্রাসা ও হুনাফা ইসলামিক স্কুলের প্রিন্সিপাল।

পুলিশের তথ্যমতে, ২০২০ সালে ঝিকরগাছা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে দায়ের করা একটি মামলার অন্যতম আসামি তিনি। ২০২১ সালে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের (এবিটি) সদস্য হিসেবেও তিনি গ্রেফতার হয়েছিলেন।
৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তিনি আবারও আলোচনায় আসেন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বিভিন্ন উসকানিমূলক বক্তব্য ছড়িয়ে দেন।

স¤প্রতি ইনকিলাব মঞ্চের আহŸায়ক শরিফ ওসমান বিন হাদির মৃত্যুর পর শাহবাগের বিক্ষোভেও তাকে সামনের সারিতে দেখা যায়। তবে অন্যান্য বিক্ষোভকারীরা দূরত্ব বজায় রাখায় তিনি মাঝপথে কর্মসূচি শেষ করে চলে যান। সবশেষ ১৮ ডিসেম্বর প্রথম আলো ও ডেইলি স্টার কার্যালয়ে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনায় তার নাম আসে। এমনকি তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজেও ওই হামলার সমর্থনে পোস্ট দেখা যায়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments