পল্লবীতে অস্ত্র-গুলিসহ তিন শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেফতার

রাজধানীর পল্লবী থানার এলাকা থেকে দুটি বিদেশি আগ্নেয়াস্ত্র ও ১১ রাউন্ড গুলিসহ তিনজনকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব-৪)। র‌্যাবের দাবী,গ্রেফতারকৃতরা পল্লবী এলাকার শীর্ষ সন্ত্রাসী। তাদের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা রয়েছে।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর শাহ আলী থানাধীন গোড়ার চটবাড়ি বেড়িবাঁধ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। পরে পল্লবী থানাধীন লালমাটি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকা থেকে অস্ত্র ও গোলাবারুদ উদ্ধার করা হয়। গ্রেফতারকৃতরা হলেন-ফাইজুর রহমান মুক্তি ওরফে ডন মুক্তি, শাকির আহম্মেদ সুমন ওরফে হকি সুমন ও গোলাম মোস্তাফা কামাল বাপ্পি ওরফে শুটার বাপ্পি।

গতকাল শুক্রবার রাজধানীর মিরপুর-১ এর পাইকপাড়ায় র‌্যাব-৪ সদর দপ্তরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে র‌্যাব-৪ এর একটি আভিযানিক দল জানতে পারে যে, শাহ আলী থানাধীন গোড়ার চটবাড়ি বেড়িবাঁধ এলাকায় কতিপয় চিহ্নিত অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী অবস্থান করছে। তাৎক্ষণিক অভিযান পরিচালনা করে তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা পল্লবী থানার লালমাটি উচ্চ বিদ্যালয় সংলগ্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র লুকিয়ে রাখার তথ্য দেয়। পরে সেখানে অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, একটি বিদেশি রিভলবার, একটি ম্যাগাজিন ও ১১ রাউন্ড তাজা গুলি উদ্ধার করা হয়।

র‌্যাব জানায়, উদ্ধারকৃত অস্ত্র ব্যবহার করে গ্রেফতাররা মিরপুর, পল্লবী, রূপনগর ও শাহ আলী থানাসহ আশপাশের এলাকায় চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি প্রদর্শনসহ নানা অপরাধমূলক ও সন্ত্রাসী কর্মকান্ড চালিয়ে আসছিল। এদিকে, একই অভিযানে তাদের সঙ্গে কুখ্যাত মাদক ব্যবসায়ী বাবু ওরফে পিচ্চি বাবুকে ইয়াবাসহ গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব-৪ এর কোম্পানি কমান্ডার নাজমুল ইসলাম আরও জানান, প্রাথমিক তদন্তে গ্রেফতারকৃতদের বিরুদ্ধে হত্যা, ডাকাতি, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, অস্ত্র ও মাদক সংক্রান্ত একাধিক মামলা বিভিন্ন থানায় রয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তর করা হয়েছে।

খিলগাঁও ফ্লাইওভারে পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনায় চালক গ্রেফতার :রাজধানীর খিলগাঁও ফ্লাইওভারে পিকআপের চাপায় রুবেল হক নামে এক পুলিশ সদস্য নিহতের ঘটনায় চালক মো. আবু নাসের সোহাগকে গ্রেফতার করেছে র‌্যাব।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে র‌্যাব-৩ এর সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার(মিডিয়া) সনদ বড়ুয়া এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গত ৩১ ডিসেম্বর রাত পৌনে ১২টার দিকে খিলগাঁও ফ্লাইওভারে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটরসাইকেল আরোহী পুলিশ লাইন্সে কর্মরত নায়েক মো. রুবেল হক নিহত হন। এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় সড়ক পরিবহন আইনে একটি মামলা দায়ের হয়।

পরে পল্টন থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একমাত্র অভিযুক্ত আবু নাসের ওরফে সোহাগকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে গত বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। এতে ঘটনাস্থলে ওই পুলিশ সদস্য নিহত হন।

কিশোর হত্যা, ৬ আসামি গ্রেফতার

রাজধানীর টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকা থেকে এক কিশোরকে শ্বাসরোধে হত্যার ঘটনায় ছয় আসামিকে গ্রেফতার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। একই সঙ্গে হত্যাকান্ডের মূল রহস্য উদ্ঘাটন করা হয়েছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মুহাম্মদ তালেবুর রহমান। গ্রেফতারকৃতরা হলেন- তাসলিমা আক্তার, সৌদি প্রবাসী আরাফাত হোসেন, মো. সাকিব খান, নয়ন মিয়া, নুরুজ্জামান শ্যামল ও রাকিব মিয়া।

বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত নারায়ণগঞ্জ ও টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় একাধিক অভিযান চালিয়ে হত্যাকাÐে জড়িত ৬ জনকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় হত্যায় ব্যবহৃত একটি ইজিবাইকও উদ্ধার করা হয়েছে।

ডিবির তথ্যমতে, নারায়ণগঞ্জের বাসিন্দা তাসলিমা আক্তারের সঙ্গে ভিকটিম আল আদিয়াত সায়রের (১৭) প্রেমের সম্পর্ক ছিল। একপর্যায়ে ভিকটিম গোপনে তাসলিমার আপত্তিকর ছবি ধারণ করে তা কয়েকজন বন্ধুর কাছে ছড়িয়ে দেয়। পরে তাসলিমার সঙ্গে সৌদি প্রবাসী আরাফাত হোসেনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। ছবিগুলো ছড়িয়ে পড়ার বিষয়টি জানার পর আরাফাত দেশে ফিরে এসে ব্যবস্থা নেওয়ার পরিকল্পনা করেন।

পরিকল্পনা অনুযায়ী আরাফাত গত ২ নভেম্বর দেশে ফেরেন। পরদিন ৩ নভেম্বর তাসলিমা ভিকটিমকে নিয়ে গাজীপুরের উলুখোলা এলাকায় গেলে ইজিবাইকচালক রাকিবসহ অন্যান্য সহযোগীরা তাদের রিসিভ করে।
রাত আনুমানিক ৮টার দিকে গাজীপুর মহানগর পুলিশের (জিএমপি) পূবাইল থানাধীন বিন্দান রোড এলাকায় পৌঁছালে ভিকটিমকে ইজিবাইকে তুলে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। পরে আসামিরা মরদেহ ঘোড়াশাল-টঙ্গী মহাসড়কের পাশে ফেলে পালিয়ে যায়।

ডিসি তালেবুর রহমান জানান, বাদী মিজানুর রহমান আদালতে নালিশি পিটিশন দাখিল করলে আদালতের নির্দেশে কদমতলী থানায় মামলাটি রুজু করা হয়। পরে গত ২৬ নভেম্বর ডিবি ওয়ারী বিভাগ মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে। প্রযুক্তিগত সহায়তায় ৩১ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা এলাকা থেকে প্রথমে তাসলিমা আক্তারকে গ্রেফতার করা হয়।তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে টঙ্গী পূর্ব থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও পাঁচজনকে গ্রেফতার করা হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments