নির্বাচনের আগ মুহুর্তে তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটি’র সরাসরি তত্ত্বাবধানে ঢাকায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীর সদস্যদের আনাগোনা চলছে। বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ওপর পাকিস্তান সেনাবাহিনী বিশেষ করে আইএসআই (ইন্টার সার্ভিস ইন্টেলিজেন্স) এর হস্তক্ষেপ সামনের নির্বাচনে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
এরই জের ধরে গত সপ্তাহে দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক ও ইনকিলাব মঞ্চের প্রবক্তা এবং তুরস্কের নাগরিক মাহমুদুর রহমান তুরস্ক গিয়েছেন। তুরস্কের ইস্তানবুলে জামায়াতের অনলাইন এ্যাক্টিভিস্ট পিনাকি ভট্টাচার্যসহ তুরস্কের গোয়েন্দা সংস্থা এমআইটির প্রতিনিধি দলের সাথে বৈঠক করে তিনি আগামী বৃহস্পতিবার ঢাকায় ফিরবেন বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।
৫ আগষ্টের পর এ পর্যন্ত ঢাকায় পাকিস্তান থেকে বিভিন্ন ক্যাটাগরির অন্তত ৭৫ টি প্রতিনিধি দল এসেছে। সর্বশেষ সোমবার পাকিস্তান সেনাবাহিনীর ১৫ জন শীর্ষ কর্মকর্তা ঢাকায় আসেন। নির্বাচনের আগে পাকিস্তান থেকে এ ধরনের প্রতিনিধি দল ঢাকায় আসার বিষয়টি বিএনপির শীর্ষ মহল সহজভাবে দেখছে না। বিষয়টিকে তারা ১২ ফেব্রুয়ারির অনুষ্ঠিতব্য ভোটে প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে মনে করছে। বিশেষ করে তুরস্কপন্থী জামায়াত ইসলামীর পক্ষে প্রভাব বিস্তার করতে পারে বলে বিএনপি ধারণা করছে। পাকিস্তানের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তাদের ঢাকায় আসার বিষয়টি বিএনপির শীর্ষ মহল ওয়াকিবহাল।
এর মধ্যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা যারা মাঠ পর্যায়ে কমান্ডারের দায়িত্বে রয়েছেন, তারা ধারণা করছেন যে আগামী জাতীয় নির্বাচনের দিন একটা ইলেকশন ইঞ্জিনিয়ারিং হবে। বিশেষ করে নির্বাচনের আগেই সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান দেশের সকল সেনানিবাসে জিওসি, ব্রিগেড কমান্ডার, কমান্ডার ও সৈনিকদের সাথে বৈঠক করা এবং দরবার করার বিষয়টি সহজ চোখে দেখার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, অতীতে সকল নির্বাচনের আগে ওই সময়কার সেনাপ্রধানগণ এরকম ম্যারাথন ভিজিট কখনই করেননি।
সেনাপ্রধানের এই ঝটিকা পরিদর্শন অনেকটা সন্দেহজনক মনে করছে। সম্প্রতি সেনাপ্রধান চট্টগ্রাম, রংপুর, বগুড়া, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, যশোর, বরিশাল, সিলেট, কুমিল্লা, টাঙ্গাইল, কক্সবাজার এলাকার সেনানিবাসে বৈঠক করেছেন। মঙ্গলবার সেনাপ্রধান গাজীপুর রাজেন্দ্রপুর সেনানিবাস ও শরীয়তপুরে পদ্মা সেতু সংশ্লিষ্ট সেনানিবাস ভিজিট করবেন।



