মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের দশম দিনে নতুন করে বিস্তৃত হয়েছে সংঘাতের পরিধি। ইরান গতকাল সোমবার ইসরাইলসহ উপসাগরীয় অঞ্চলের একাধিক দেশে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। হামলার ফলে বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় তেল শোধনাগারে আগুন ধরে যায় এবং অঞ্চল জুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি আরো উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর থেকেই পালটা আঘাত হানছে তেহরান। ইরান জানিয়েছে, তারা ইসরাইল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে অবস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক স্থাপনা এবং মিত্র অবকাঠামো
লক্ষ্য করে হামলা চালাচ্ছে। গতকাল সোমবার ভোরে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কোর (আইআরজিসি) নতুন করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলার ঘোষণা দেয়। একই সময় ইসরাইলও জানায়, তারা ইরানের বিভিন্ন স্থানে নতুন করে বিমান হামলা চালাচ্ছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন জানায়, ইরানের রাজধানী তেহরানে কয়েকটি বড় বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে, যা বিমান হামলার সময় সাধারণত শোনা যায়। ইসরাইলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, তারা লেবাননের রাজধানী বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলে হিজবুল্লাহর অবকাঠামো লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে। রয়টার্সের প্রকাশিত ভিডিওতে ঐ এলাকা থেকে
ঘন ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। আরেকটি ভিডিওতে বৈরুতের একটি ছোটেলে আগুন জ্বলতে দেখা যায়, যেখানে একটি অ্যাপার্টমেন্ট সম্পূর্ণ ধ্বংস হয়ে গেছে। ইসরাইলি বাহিনীর দাবি, বৈরুতে হামলার সময় তারা ইরানের কুদস ফোর্সের কয়েক জন জ্যেষ্ঠ কমান্ডারকে হত্যা করেছে
বাহরাইনের তেল শোধনাগারে আগুন: গতকাল সোমবার ইরানের ড্রোন হামলায় বাহরাইনের রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন তেল শোধনাগার কমপ্লেক্সে আগুন ধরে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানায়, হামলার পর শোধনাগার এলাকা থেকে ঘন ধোঁয়া আকাশে উঠতে দেখা গেছে।
বাহরাইন পেট্রোলিয়াম কোম্পানি (বাপকো) জানিয়েছে, চলমান সংঘাত ও সাম্প্রতিক হামলার কারণে তাদের তেল শোধনাগারের কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে। ফলে তারা তেল সরবরাহের ক্ষেত্রে ‘ফোর্স মেজর’ ঘোষণা করেছে, অর্থাৎ চুক্তি অনুযায়ী তেল সরবরাহ আপাতত সম্ভব নয়। এই শোধনাগারটি বাহরাইনের জ্বালানি খাতের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো। হামলার ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের তেল উৎপাদন ও সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্নের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
ড্রোন হামলায় আহত অন্তত ৩২ বাহরাইনের রাজধানী মানামার দক্ষিণে সিত্রা এলাকায় ইরানের ড্রোন হামলায় অন্তত ৩২ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা বাহরাইন নিউজ এজেন্সি। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের বরাতে জানানো হয়, আহতদের সবাই বাহরাইনের নাগরিক। তাদের মধ্যে ১৭ বছর বয়সি এক কিশোরী গুরুতরভাবে আহত হয়েছে। তার মাথা ও চোখে আঘাত লেগেছে। আহতদের মধ্যে সবচেয়ে কম বয়সি এক জনের বয়স মাত্র দুই মাস। প্রতিবেদন অনুযায়ী, চার জনের অবস্থা গুরুতর এবং কয়েক জন শিশুকে অস্ত্রোপচার করতে হয়েছে।
উপসাগরীয় দেশগুলোতে প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয়: ইরানের হামলার মুখে উপসাগরীয় একাধিক দেশ তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সক্রিয় করেছে। সৌদি আরব জানিয়েছে, তাদের বৃহত্তম তেলক্ষেত্রগুলোর একটি শায়বা তেলক্ষেত্রের দিকে আসা চারটি ড্রোন মরুভূমি এলাকায় ধ্বংস করা হয়েছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া একাধিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন প্রতিহত করেছে। কুয়েতের ন্যাশনাল গার্ড একটি ড্রোন ভূপাতিত করেছে এবং কাতার জানিয়েছে, তাদের সশস্ত্র বাহিনী একটি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করেছে। এদিকে আবুধাবিতে একাধিক বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে



