তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাসের (এলপিজি) প্রতি কেজির খুচরা দাম ৩২ টাকা ৩০ পয়সা বাড়িয়ে ১৪৪ টাকা চার পয়সা নির্ধারণ করেছে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)। ভোক্তাপর্যায়ে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত ১২ কেজি এলপিজি সিলিন্ডারের দাম ১ হাজার ৩৪১ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার ৭২৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। অর্থাৎ সরকারি পর্যায়ে বেসরকারি কোম্পানিগুলোর ১২ কেজি এলপিজির দাম বাড়লো ৩৮৭ টাকা ।
সাম্প্রতিককালে রান্নার এ জ্বালানির দাম সবচেয়ে বেশি বাড়লো চলতি এপ্রিল মাসে। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয়েছে। তবে গত কয়েক বছর ধরে বিইআরসি নির্ধারিত দামের চেয়েও বেশি দামে এলপিজি বাজারে বিক্রি হচ্ছে। যেমন মার্চে ১২ কেজির সিলিন্ডারের দাম ১৩শ ৪১ টাকা থাকলেও গ্রাহকদের ১৬শ থেকে ১৭শ টাকায় কিনতে হয়। এবারও পুনর্নির্ধারিত দামে এলপিজি পাওয়া যাবে না বলে আশঙ্কা গ্রাহকদের।
এদিকে গাড়িতে ব্যবহৃত প্রতি কেজি এলপিজি বা অটোগ্যাসের দাম ৬১ টাকা ৮৩ পয়সা থেকে ৭৯ টাকা ৭৭ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। কেজিপ্রতি বেড়েছে ১৭ টাকা ৯৪ পয়সা। সরকারি কোম্পানির সরবরাহ করা এলপিজির সাড়ে ১২ কেজি সিলিন্ডারের দাম ৭৭৬ টাকা ৯৩ পয়সায় অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বিইআরসি চেয়ারম্যান জালাল আহমেদ নতুন মূল্যহার ঘোষনা করেন। তিনি জানান, ১৪৪ টাকা চার পয়সা কেজি দরে বিভিন্ন আকারের এলপিজি সিলিন্ডারের দাম নির্ধারিত হবে। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন সংস্থাটির সদস্য ড. সৈয়দা সুলতানা রাজিয়া, মো. আব্দুর রাজ্জাক, মো. মিজানুর রহমান এবং ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) মো. শাহিদ সারওয়ার।
২০২১ সালের এপ্রিলে প্রতি মাসের জন্য এলপিজির দাম নির্ধারণ শুরু করে বিইআরসি। এলপিজি তৈরির মূল উপাদান প্রোপেন ও বিউটেন বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করে বেসরকারি অপারেটররা।
প্রতি মাসে এলপিজির এই দুই উপাদানের মূল্য প্রকাশ করে সৌদি আরবের প্রতিষ্ঠান আরামকো। এটি সৌদি কার্গো মূল্য (সিপি) নামে পরিচিত। এই সৌদি সিপিকে ভিত্তিমূল্য ধরে দেশে এলপিজির দাম সমন্বয় করে বিইআরসি।
আমদানিকারক কোম্পানির চালান (ইনভয়েস) মূল্য থেকে গড় করে পুরো মাসের জন্য ডলারের দাম হিসাব করে বিইআরসি। এর সঙ্গে পরিবহনসহ স্থানীয় নানা খরচ বিবেচনায় নিয়ে এলপিজির দাম নির্ধারণ করা হয়।


