আওয়ামী লীগ ও অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল ব্যবস্থাপনায় হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেছেন, গত সাড়ে পাঁচ বছর হাম-রুবেলার বিশেষ টিকা দেওয়ার কর্মসূচি হয়নি। ফলে নবজাতকসহ যারা হামের টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়, তারাই এখন হামে আক্রান্ত হচ্ছে। বিগত আওয়ামী লীগের ও পরে অন্তর্বর্তী সরকারের ভুল ব্যবস্থাপনার কারণেই দেশে এখন হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে।

গতকাল সোমবার সংসদে দেশে হামের প্রাদুর্ভাব রোধে জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ নিয়ে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সংসদ সদস্য আখতার হোসেনের নোটিশের জবাবে মন্ত্রী একথা বলেন।

নোটিশে আখতার হোসেন বলেন, গত তিন সপ্তাহে সন্দেহজনক হামে মৃত্যুর সংখ্যা ১১৫-এর বেশি, নিশ্চিত মৃত্যু ২০ জন। হাজার হাজার শিশু হামে আক্রান্ত হচ্ছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেছেন- গত ৮ বছর হামের টিকা দেওয়া হয়নি।

এটা সঠিক তথ্য কিনা, সেটা নিয়ে হামের টিকা প্রদানকারী মাঠপর্যায়ের কর্মীদের উৎকণ্ঠা বা ভিন্নমত খেয়াল করছি। সেক্ষেত্রে কেন হামের টিকা দেওয়া হয়নি, তা আমাদের অবাক করে।

আমরা জানি, হামের চিকিৎসার জন্য আইসোলেশন প্রয়োজন। কিন্তু আমাদের হাসপাতালগুলোতে আইসোলেশন একেবারেই নেই। জেলা-উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালসহ বড় বড় হাসপাতালেও নেই। বিশেষ করে রাজশাহী অঞ্চলের কথা বেশি সামনে এসেছে। হাসপাতালে আইসিইউ ও এনআইসিইউ নেই।

আখতার হোসেন বলেন, আমাদের দেশে হামের টিকা দেওয়া হয় ৯ মাস থেকে। কিন্তু এখন ৬ মাস বয়সীরা আক্রান্ত হচ্ছে। আমাদের রোগতত্ত্ববিশারদেরা কী কারণে এটা চিহ্নিত করতে পারলেন না, সেটা নিয়ে তদন্ত করা উচিত। হাম মোকাবেলায় সরকারের উদ্যোগের কথা জানতে চান তিনি।

জবাবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত বলেন, অতীতের সরকারগুলোর সম্পূর্ণ ভুল ব্যবস্থাপনা ও ব্যর্থতার কারণে, সরকারগুলো বলতে ফ্যাসিস্ট সরকার এবং সর্বশেষ অন্তর্বর্তী সরকারকে ইঙ্গিত করতেছি। তাদের ভুল ব্যবস্থাপনার কারণে হামের প্রাদুর্ভাব বেড়েছে।

হাম- রুবেলার বিশেষ টিকা দেওয়ার কর্মসূচি সর্বশেষ ২০২০ সালের ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার পর দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছর যাবৎ হয়নি; যা চার বছর পরপর হওয়ার কথা। ফলে নতুন জন্ম নেওয়া শিশুসহ অন্যরা হামের টিকার আওতার বাইরে থেকে যায়, যারা এখন হামে আক্রান্ত হচ্ছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশের সব সরকারি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা করা হয়েছে। বিশেষ করে রাজশাহীতে আরো ২৫০টি আইসোলেশন বেড প্রস্তুত করা হচ্ছে। আইসিইউ ও ভেন্টিলেটর প্রস্তুতির পাশাপাশি আইসিডিডিআরবির মাধ্যমে মাত্র ৩০০ টাকা ব্যয়ে উদ্ভাবিত নতুন অক্সিজেন প্রবাহ সিস্টেম ব্যবহার করে ফুসফুসে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্যের পর সম্পূরক প্রশ্নে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন মাঠপর্যায়ের অব্যবস্থাপনার অভিযোগ তুলে বলেন, স্বাস্থ্য খাতের বাজেটের প্রায় ২৫ শতাংশ অব্যয়িত থেকে যায়। ২০২৪-২৫ অর্থবছরেও ১১ হাজার কোটি টাকা খরচ করা সম্ভব হয়নি।

জবাবে সরদার সাখাওয়াত হোসেন জানান, করোনাকালীন সময়ের অব্যয়িত ৬০৪ কোটি টাকা দিয়ে ইউনিসেফ থেকে অতিরিক্ত হামের টিকা সংগ্রহ করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে যাতে টিকার কোনো ঘাটতি না হয়, সেবিষয়ে মন্ত্রণালয় সতর্ক রয়েছে। মাঠপর্যায়ের তদারকি বাড়াতে স্বাস্থ্যকর্মীদের সব ছুটি বাতিল করা হয়েছে এবং উন্নয়ন সহযোগীদের (বিশ্বব্যাংক, ইউনিসেফ) সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করা হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

Most Popular

Recent Comments