রংপুরে দানের অর্থে সাবলম্বী হওয়া ইউএনডিসির ৪৮ জন সদস্য এবার নিজেরাই দান করে গড়লেন মানবতার এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। তারা নিজেদের উন্নয়নের ধারাকে এগিয়ে নিতে প্রতিবেশী দরিদ্র পরিবারগুলোকেও স্বাবলম্বী করতে সহায়তার হাত বাড়িয়ে দিয়েছেন।
সম্প্রতি ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, রংপুর এরিয়া প্রোগ্রামের মাধ্যমে দানের অর্থ, গবাদি পশু, মুদি দোকানের পণ্যসহ বিভিন্ন উপকরণ পেয়ে স্বাবলম্বী হন ইউএনডিসির বিভিন্ন ক্লাস্টারের সদস্যরা। নিজেদের অবস্থার উন্নতি ঘটার পর তারা এবার সেই সহায়তা পৌঁছে দিলেন আরও অসচ্ছল মানুষের কাছে—‘দান থেকে দান’ এই উদ্যোগের মাধ্যমে।
গত ১৫ এপ্রিল (বুধবার) বিকেলে রংপুর সদর ব্যাপ্টিস্ট চার্চে “প্রতিবেশীদের সাথে দানের আনন্দ উদযাপন অনুষ্ঠান-২০২৬” আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে আল্ট্রাপোর গ্র্যাজুয়েশন দলের সদস্য ও উপকারভোগীরা অংশগ্রহণ করেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ, রংপুর এরিয়া প্রোগ্রামের সিনিয়র ম্যানেজার উত্তম দাস। এ সময় বক্তব্য রাখেন টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট (লাইভলিহুড) সৈয়দ ইস্তিয়াক আহমেদ, টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট (স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও ওয়াশ) পল্লব কান্তি রায়, টেকনিক্যাল স্পেশালিস্ট (শিক্ষা) অপর্ণা চৌধুরী এবং ইউএনডিসি ‘ভোরের আলো’র সভাপতি ছালমা খাতুন।
অনুষ্ঠানে উপকারভোগী দানকারী হিসেবে উপস্থিত ছিলেন চায়না পারভীন এবং দান গ্রহণ করেন মাহাফুজা বেগম।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, এই ধরনের উদ্যোগ সমাজে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সহমর্মিতার চর্চা বাড়াবে এবং দরিদ্র জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তারা বলেন, দান থেকে দান করে ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশের কাছে ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে থাকলেন রংপুর।
উল্লেখ্য, ওয়ার্ল্ড ভিশন বাংলাদেশ এর রংপুর এপি থেকে ২০১৮ সাল থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত মোট ২০৩৯ জন আল্ট্রা পুওর (অতি দরিদ্র) পরিবার বিভিন্ন সম্পদ যেমন—গরু, ছাগল, হাঁস-মুরগি এবং ক্ষুদ্র ব্যবসার জন্য আর্থিক সহযোগিতা পেয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করেছেন।
এদের মধ্যে ৪৮ জন আল্ট্রা পুওর গ্রাজুয়েট (ইউপিজি) উপকারভোগী আজ তাদের দরিদ্র প্রতিবেশীদেরকে ছাগল, হাঁস, মুরগি ও নগদ অর্থ সহযোগিতা করে মানবতার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।



