রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের ৪০ নম্বর কিডনি ওয়ার্ডের চিকিৎসক,নার্স-আয়াসহ কর্মচারীরা ঈদ উদযাপনের নামে সেখানে চিকিৎসাধিন রোগীদের বাধ্যতামূলক ছুটি দিয়ে নেফ্রোলজি (কিডনি) ওয়ার্ড তালা লাগিয়ে চার দিন ধরে বন্ধ রেখেছেন। এতে রংপুর অঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে আসা কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীরা চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। এ নিয়ে রোগী ও স্বজনদের মাঝে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।মেডিকেল কতৃপক্ষ বলছেন কিডনি ওয়ার্ড বন্ধ থাকলেও রোগীদের চিকিৎসা অব্যাহত রয়েছে।
শনিবার (৩০ মে)রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের দোতলায় অবস্থিত ৪০ নম্বর নেফ্রোলজি (কিডনি) ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, ওয়ার্ডে প্রবেশ পথের প্রধান গেট ভেতর থেকে তালা বন্ধ করে রাখা হয়েছে। বেশ কিছু সময় অপেক্ষার পর এক নার্স কাচের দরজার ওপার থেকে ইশারা করে জানালেন কোনও রোগী নেই, ওয়ার্ড
বন্ধ। রোগী কোথায় গেলো জানতে চাইলে বলেন, ঈদ উপলক্ষে রোগীদের ছুটি দিয়েছেন বড় স্যাররা।

ওয়ার্ডের ভেতরে প্রবেশ করার কোনও ব্যবস্থা না থাকায় জানালা দিয়ে দেখা গেছে, পুরো ওয়ার্ডের সব বেড ফাঁকা পড়ে আছে। ঈদের আগের দিন বুধবার থেকে চার দিন ধরে এভাবেই পুরো একটি ওয়ার্ড বন্ধ করে রেখে কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত করে রাখা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
এ সময় কিডনি ওয়ার্ডে কর্মরত এক কর্মচারী নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, সোমবার (২৫ মে) পর্যন্ত ১৮ জন কিডনি রোগে আক্রান্ত রোগী এই ওয়ার্ডে ভর্তি ছিলেন। কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হলেও ঈদ উদযাপনের নামে ডাক্তাররা রোগীদের বাধ্যতামূলক ছুটি দিয়ে পুরো ওয়ার্ড খালি করে বন্ধ করে দিয়েছেন।সোমবারের (১ জুন) আগে কোনও নতুন রোগী আপাতত এখানে রাখা যাবে না বলে মৌখিক নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
অপরদিকে পাশেই কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ঈদের দিন বৃহস্পতিবার থেকে শুরু করে শনিবার পর্যন্ত কিডনি রোগে আক্রান্ত ৬২ জন রোগীকে প্রতিদিন তিন শিফটে ডায়ালাইসিস দেওয়া হচ্ছে।
কিডনি ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডে কর্তব্যরত একজন সহকারী নার্স বললেন, আমাদের ওয়ার্ডে ঈদের দিনও রোগীদের ডায়ালাইসিস কার্যক্রম অব্যাহত ছিল, চলছে। ঈদের দিনে ৬২ জনকে ডায়ালাইসিস করানো হয়েছে। সেই সঙ্গে ঈদের দিন খোলা থাকবে এই বিষয়টি রোগী ও তাদের স্বজনদের আগাম জানিয়ে দেওয়া হয়েছিল।
এদিকে ডায়ালাইসিস ওয়ার্ডের এক দায়িত্বশীল কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, ডায়ালাইসিস করতে আসা কোনও রোগীর অবস্থা অবনতি ঘটলে তার চিকিৎসার কোনও ব্যবস্থা আপাতত নেই । কিডনি ওয়ার্ড পুরোপুরি বন্ধ বিষয়টি পুরোটাই অমানবিক।
বন্ধ থাকা কিডনি ওয়ার্ডের সামনে মেঝেতে অবস্থান করা গাইবান্ধা থেকে আসা রোগী রুহুল আমিন জানান, তিনি রংপুর মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে কিডনি ওয়ার্ডে ভর্তি। এসে তালাবন্ধ দেখতে পাওয়ায় বাধ্য হয়ে একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছেন তার স্বজনরা।
কিডনি বিভাগের সার্বিক বিষয়ে জানতে কিডনি ওয়ার্ডের বিভাগীয় প্রধানসহ কোন চিকিৎসককেই পাওয়া যায়নি।
রংপুর মেডিকেল হাসপাতালের পরিচালকের দায়িত্বে থাকা উপ-পরিচালক ডাঃ আব্দুল মোকাদ্দেমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, বিষয়টি তার জানা নেই, তবে খবর নিয়ে দেখবেন। তবে কিডনি বিভাগ বন্ধ থাকলেও রোগীদের মেডিসিন ওয়ার্ডে রেখে চিকিৎসা চলমান রয়েছে। মেডিকেলের অন্যান্য ওয়ার্ডগুলোতে সার্বক্ষণিক চিকিৎসা সেবা দিচ্ছেন কর্তব্যরত চিকিৎসকরা।



