ঈদের ছুটির প্রভাবে রাজশাহীতে আমের বাজার বেসামাল হয়ে পড়েছে। গুটি আমের দাম কমে প্রতিমণ ৭০০ টাকায় ঠেকেছে। গোপালভোগ প্রতিমণ ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তবে খিরসাপাত বা হিমসাগর শুরুতেই প্রতিমণ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
রাজশাহীতে আমের সবচেয়ে বড় বিক্রয় কেন্দ্র পুঠিয়ার বানেশ্বর হাট। রবিবার এই হাটে প্রতিমণ গোপালভোগ আম ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। গত ২২ মে প্রথম গোপালভোগ বাজারে এসেই দাম উঠে ২ হাজার টাকা। এর আগে ১৫ মে থেকে বাজারে আসা গুটি আম ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে।
তবে রবিবার গুটি আম প্রতিমণ ৭০০/৮০০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। ২৫ মে বাজারে আসা রানিপছন্দ ও ল²ণভোগ প্রতিমণ বিক্রি হচ্ছে ৮০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকায়। এরপর ৩০ মে বাজারে আসা খিরশাপাত বা হিমসাগর আম প্রতিমণ ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
পুঠিয়ার ভুবননগরের জাহিদুল ইসলামের প্রায় ২০ বিঘা জমিতে আমবাগান রয়েছে। তিনি বলেন, একমণ গুটি আম এখন বিক্রি হচ্ছে ৭০০/৮০০ টাকা। সময়মত সার দিতে হয়, কয়েকবার কীটনাশক দিতে হয়। শ্রমিক খরচও অনেক। এত খরচ করে আমে লাভ তো দূরের কথা, খরচও উঠছে না।
চাষি ও ব্যবসায়ীরা জানান, কোরবানির ঈদের ছুটিতে আম ক্রেতাদের আগ্রহ কম। বিশেষ করে পরিবহন বন্ধ থাকায় ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে আম পাঠানো বন্ধ হয়ে যায়। এ কারণে আমের দাম কম। বানেশ্বর হাটে গোপালভোগ নিতে আসা ব্যবসায়ী হযরত আলী বলেন, গত বছর এসময়ে প্রতিমণ গোপালভোগ বিক্রি হয়েছে ২ হাজার ৪০০ টাকায়।
একই কথা বলেন ব্যবসায়ী রনি। তিনি বলেন, মানুষ এখনো কোরবানির মাংস খাচ্ছে। তাই আম কেনায় আগ্রহ কম। গতবছর কোরবানি আরও পরে ছিল। তখন গোপালভোগের চাহিদা ছিল। এবার বাজার বেসামাল।
দুর্গাপুরের আমগাছি গ্রামের আজিবুর রহমান বলেন, কয়েক দিন ধরে গোপালভোগ বিক্রি করছি। বর্তমান দামে শ্রমিক খরচ, পরিবহণ ও বাগানের পরিচর্যার টাকা দিয়ে লাভ হচ্ছে না। ঈদের ছুটির কারণে এবার গোপালের কপাল খারাপ।’
ব্যবসায়ী সাগর বলেন, প্রতি ঈদে আমের বাজার একটু কম হয়। ঈদ শেষে মানুষ ঢাকায় ফিরছেন। তারা খুচরা আম কিনছেন, তাই খুচরায় দাম একটু বেশি। তবে কুরিয়ার ও পরিবহণ বন্ধ থাকায় পাইকারি দাম কম। এগুলো স্বাভাবিক হলেই আমের দাম বাড়বে।
এবার রাজশাহীতে ১০ জুন ব্যানানা ও ল্যাংড়া; ১৫ জুন আম্রপালি ও ফজলি; ৫ জুলাই বারি আম-৪, ১০ জুলাই আশ্বিনা ও ১৫ জুলাই গৌড়মতি আম বাজারজাত করা যাবে। এছাড়া সারা বছরই কাটিমন ও বারি আম-১১ পাড়া যাবে। রাজশাহীতে এবার ১৯ হাজার ৬২ হেক্টর জমির বাগান থেকে ২ লাখ ৪৩ হাজার ৯৯৩ টন আম উৎপাদনের টার্গেট করেছে কৃষি বিভাগ।
কৃষি স¤প্রসারণ অধিদপ্তর, রাজশাহীর উপ-পরিচালক মোহাম্মদ নাসির উদ্দিন বলেন, এবার আমের মৌসুমে রাজশাহীতে বড় দুর্যোগ হয়নি। এ কারণে আমের উৎপাদন ভালো। বাজারে আমের সরবরাহ বেশি। দাম যেমনটা থাকা দরকার, তেমনই আছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।



