খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী সংসদকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয়। তবে, সরকারি খাদ্য ব্যবস্থাপনায় অপচয়ের হার ধারাবাহিকভাবে কমছে। গতকাল সোমবার সংসদে কুমিল্লা-৯ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি একথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউনেপের (ইউএনইপি) ২০২৪ সালের ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স প্রতিবেদন অনুযায়ী বাংলাদেশে প্রতিবছর সামগ্রিকভাবে প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হচ্ছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখিত অপচয়ের পরিমাণ সামগ্রিক চিত্র তুলে ধরলেও খাদ্য মন্ত্রণালয় দেশের খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিরলসভাবে কাজ করছে। সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য সংগৃহীত খাদ্যশস্য গুদাম ও সাইলোতে সংরক্ষণ করা হয় এবং পুরো ব্যবস্থাপনা প্রক্রিয়ায় কিছু খাদ্যশস্য নষ্ট বা অপচয় হয়। তবে আধুনিক সাইলো ও খাদ্যগুদাম নির্মাণ এবং পরিবহনব্যবস্থার উন্নয়ন ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সচেতনতা বৃদ্ধির ফলে অপচয় ধীরে ধীরে কমে আসছে।
সংসদে প্রতিমন্ত্রীর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারি ব্যবস্থাপনায় খাদ্যশস্যের মোট ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ১৮ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ মেট্রিক টন, যা মোট খাদ্যশস্যের মাত্র শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ। এর আগের ২০২৩-২৪ অর্থবছরে এই পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন বা শূন্য দশমিক ৩১৬ শতাংশ। ফলে এক বছরের ব্যবধানে সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের অপচয় ও ঘাটতি উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে।
প্রতিমন্ত্রী জানান, খাদ্যনিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি খাদ্যের অপচয় রোধে জনসচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে। উৎপাদন বৃদ্ধি, উৎপাদিত খাদ্যের ক্ষয়ক্ষতি কমানো এবং নিরাপদ খাদ্য ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
‘চাল ও আটার বাজার স্থিতিশীল’
জামায়াতে ইসলামীর সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, বর্তমানে চাল ও আটার বাজার স্থিতিশীল রয়েছে। প্রতি কেজি চালের পাইকারি মূল্য ৪৪ টাকা ৯৫ পয়সা ও খুচরা মূল্য ৪৭ টাকা ৩৪ পয়সা। অন্যদিকে আটার পাইকারি মূল্য ৩৯ টাকা ৩২ পয়সা ও খুচরা মূল্য ৪২ টাকা ১ পয়সা।
জামালপুর-৩ আসনের এমপি মোস্তাফিজুর রহমান বাবুলের প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী জানান, চলতি বোরো মৌসুমে দেশে ৩ কোটি ২৭ লাখ ৫ হাজার ৯২৯ মেট্রিক টন ধান উৎপাদিত হয়েছে।
সংরক্ষিত নারী আসনের সদস্য নিলোফার চৌধুরী মনির প্রশ্নের জবাবে খাদ্য প্রতিমন্ত্রী জানান, চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছরে ৮ লাখ মেট্রিক টন গম ও ৬ লাখ মেট্রিক টন চাল আমদানির কার্যক্রম গ্রহণ করা হয়েছে, যাতে দেশের খাদ্য মজুত ও সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা যায়।



