নড়াইল-২ (সদরের একাংশ ও লোহাগড়া) আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা জামায়াতের আমীর মো. আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের জন্য সচিবালয় থেকে অনুমোদিত তালিকার দুই জায়গায় তাঁর এক মেয়ের নাম থাকায় দলের পক্ষ থেকে তাঁকে সতর্ক করা হয়েছে।এদিকে ওই ঘটনায় দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ এনে নিজের ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে বরখাস্ত করেছেন সংসদ সদস্য।
রোববার পৃথক দুটি চিঠিতে এসব তথ্য জানা গেছে। বিকাল সাড়ে ৪টার দিকে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে আদেশটি ২৬ জুন থেকেই কার্যকর বলে গণ্য হবে। সচিবালয় থেকে অনুমোদিত ঐচ্ছিক তহবিল থেকে অনুদান প্রদানের জন্য তালিকার দুই স্থানে সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর এক মেয়ের নাম থাকার অভিযোগে সমালোচনার সৃস্টি হয়।
এ ঘটনায় ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানের বিরুদ্ধে দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগ আনা হয়।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের পাঠানো ওই সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, ‘বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক সংসদ সদস্য মিয়া গোলাম পরওয়ার আজ ২৮ জুন ২০২৬ তারিখে জানিয়েছেন, “সম্প্রতি সংঘটিত একটি অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে জাতীয় সংসদের নড়াইল-২ আসনের বিরোধী দলের মাননীয় সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুকে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর পক্ষ থেকে সতর্ক করা হয়েছে।
অন্যদিকে সংসদ সদস্যের প্যাডে তাঁর স্বাক্ষরিত আদেশপত্র লেখা হয়েছে, ‘এতদ্বারা সংশ্লিষ্ট সকলের অবগতির জন্য জানানো যাচ্ছে যে, আমার ব্যক্তিগত সহকারী আবু সালেহ মোহাম্মদ গোফরানকে দায়িত্ব পালনে অবহেলার কারণে বরখাস্ত করা হলো। আদেশটি ২৮/০৬/২০২৬ ইং তারিখ থেকে কার্যকর বলে গণ্য হবে।
গত শুক্রবার বাংলাদেশ সচিবালয়ের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর ঐচ্ছিক তহবিল হতে অনুদান মঞ্জুরির একটি চিঠি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। চিঠিটি অল্প সময়ের মধ্যে ভাইরাল হয়ে যায়। অসংখ্য আইডিতে চিঠিটি শেয়ার করা হয় এবং সমালোচনার ঝড় শুরু হয়।
চিঠিতে লেখা ছিল, ‘ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৯৪ নড়াইল-২ আসন হতে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আতাউর রহমানের অনুকূল স্বীয় কর্তৃত্বে বণ্টনের লক্ষ্যে ২০২৫-২৬ অর্থ বছরে বরাদ্দকৃত (১৭/০২/২৬ হতে ৩০/০৬/২২৬ পর্যন্ত) ঐচ্ছিক তহবিলের ১ লাখ ৮৩ হাজার ৫০০ টাকা নি¤œবর্ণিত ব্যক্তিগণের অনুকূলে অনুদান মঞ্জুরি প্রদানের অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছেন। সে প্রেক্ষিতে উক্ত ব্যয়ের মঞ্জুরি জ্ঞাপন করা হলো।
এরপর অনুদান যারা পাবে সারিবদ্ধভাবে তাদের ২১ জনের নাম, বাবার নাম, ঠিকানা ও টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা রয়েছে। ওই তালিকার ১ ও ৮ নম্বরে রয়েছে ‘ফাইজা’ নামে একটি নাম। ১ নম্বরে ফাইজার পিতার নাম লেখা আছে মো. বাচ্চু এবং ৮ নম্বরে ফাইজার পিতার নাম লেখা হয়েছে মো. আতাউর।
দুইটি নামের পাশে টাকার পরিমাণে ১০ হাজার টাকা উল্লেখ করা হয়েছে। মূলত এই নাম দুটি সংসদ সদস্যের মেয়ের নাম বলে ফেসবুকে প্রচার হতে থাকে।
এছাড়া লিস্টে নড়াইল সদর উপজেলার ১০ জনের মধ্যে ৯ জনই সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চুর জন্মস্থান হবখালী ইউনিয়নের বাসিন্দা।
এছাড়া লোহাগড়া উপজেলার ১১ জনের মধ্যে ৭ জনের বাড়ি সংসদ সদস্যের শ্বশুরবাড়ি লাহুড়িয়া ইউনিয়নের। শ্বশুরবাড়ি এলাকার ৭ জনের নাম থাকায় অন্যান্য ইউনিয়নবাসীর মাঝেও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।



