রাজধানীর গুলিস্তানের ফুলবাড়িয়া এলাকায় চাঁদাবাজি ও দখলবাজির বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর ডাকা বিক্ষোভ মিছিলকে কেন্দ্র করে শনিবার (৪ জুলাই) বিকেলে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং ছুরিকাঘাতের ঘটনা ঘটেছে। এতে অন্তত ২০ জন আহত হওয়ার দাবি করেছে জামায়াত ইসলামী। তাদের মধ্যে একজন ছুরিকাহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শী ও হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে বংশাল থানার ফুলবাড়িয়া বিআরটিসি বাস কাউন্টারের বিপরীত দিকে সিটি প্লাজা নামের মার্কেটের সামনে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়।
ব্যবসায়ীরা জানায়, কিছুদিন আগে সিটি প্লাজা মার্কেটের নিয়ন্ত্রন স্থানীয় বিএনপির নেতা-কর্মীদের হাতে চলে যায়। এতে জামায়াত ইসলামীর ক্ষুব্ধ হয়। জামায়াত ইসলামীর অভিযোগ, মার্কেটে বিএনপি ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি করছে। এর প্রতিবাদে জামায়াত ইসলামী গতকাল বিকালে মার্কেটের সামনে মিছিল বের করে। একপর্যায়ে মিছিলে স্থানীয় বিএনপি কর্মীরা হামলা চালায় বলে জামায়াত ইসলামী অভিযোগ করে।
এতে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ ছড়িয়ে পড়লে মো. কবির আহমেদ (৪৫) নামে এক ব্যক্তি কোমরের পেছনে ছুরিকাঘাতে গুরুতর আহত হন। তিনি পেশায় মোবাইল পার্টস ব্যবসায়ী। তার বাবার নাম তৌহিদ হোসেন। সহকর্মীরা তাকে উদ্ধার করে সন্ধ্যা ৬টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর দাবি, রাজধানীর গুলিস্তান এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে চলা চাঁদাবাজি ও দখলবাজির প্রতিবাদে তারা শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ মিছিল বের করেছিল। মিছিল চলাকালে বিএনপির স্থানীয় নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এতে অন্তত ২০ জন আহত হন, যাদের মধ্যে তিনজনের অবস্থা গুরুতর।
অন্যদিকে, বংশাল থানা পুলিশ জানিয়েছে, ফুলবাড়িয়া এলাকায় বিএনপি ও জামায়াতের পৃথক মিছিল থেকে উত্তেজনার সৃষ্টি হয় এবং পরে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। পুরো ঘটনার বিষয়ে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্প সূত্র জানিয়েছে, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে আহত একজনকে জরুরি বিভাগে ভর্তি করা হয়েছে এবং চিকিৎসকরা তাকে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিচ্ছেন।
ঘটনার পর ফুলবাড়িয়া ও গুলিস্তান এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। সন্ধ্যার পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলেও এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের বা কাউকে গ্রেপ্তারের তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘটনাস্থলের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহসহ বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত যাচাই করছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।



