বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে জমে উঠেছে ইউরোপ ও আফ্রিকার মহারণ। শেষ ষোলোর বাধা পেরিয়ে শেষ আটে মুখোমুখি হচ্ছে সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ফ্রান্স ও আফ্রিকার শক্তিশালী প্রতিনিধি মরক্কো। আগামী ৯ জুলাই অনুষ্ঠিতব্য এই লড়াই এখন থেকেই বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আকর্ষণীয় ম্যাচ হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ফ্রান্স শেষ ষোলোতে প্যারাগুয়েকে ১-০ গোলে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত করে। অন্যদিকে স্বাগতিক কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দিয়ে শেষ আটে জায়গা করে নেয় মরক্কো।
কাগজে-কলমে ফ্রান্সই এগিয়ে। কিলিয়ান এমবাপ্পেকে ঘিরে দুর্দান্ত ছন্দে থাকা ফরাসিরা শিরোপার অন্যতম দাবিদার। তবে মরক্কোকে হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। গত কয়েক বছরে আফ্রিকার দলটি বিশ্ব ফুটবলে নিজেদের নতুন শক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে।
২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপে ইতিহাস গড়ে প্রথম আফ্রিকান দল হিসেবে সেমিফাইনালে উঠেছিল মরক্কো। সেই আসরে তারা বেলজিয়াম, স্পেন ও পর্তুগালের মতো শক্তিশালী দলকে বিদায় করে বিশ্বকে চমকে দেয়। যদিও সেমিফাইনালে ফ্রান্সের কাছে হেরে যায় এবং তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচেও পরাজিত হয়ে চতুর্থ স্থান নিয়ে বিশ্বকাপ শেষ করে। তবে সেই অভিযানই আফ্রিকান ফুটবলের ইতিহাসে নতুন অধ্যায় রচনা করেছিল।
এবারের বিশ্বকাপেও সেই আত্মবিশ্বাস নিয়েই এগোচ্ছে আটলাস লায়ন্স। গ্রুপ পর্ব থেকে ধারাবাহিক ভালো ফুটবল খেলে তারা নকআউটে উঠে আসে। শেষ ৩২-এ নেদারল্যান্ডসকে টাইব্রেকারে হারানোর পর শেষ ষোলোতে কানাডাকে ৩-০ গোলে উড়িয়ে দেয় মরক্কো। দলের রক্ষণ, দ্রুত পাল্টা আক্রমণ এবং সুযোগ কাজে লাগানোর দক্ষতা তাদের অন্যতম শক্তি হয়ে উঠেছে।
অন্যদিকে ফ্রান্সও দারুণ ছন্দে রয়েছে। সুইডেনকে ৩-০ গোলে হারিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করার পর প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এমবাপ্পের একমাত্র গোলে জয় তুলে নেয় তারা। অভিজ্ঞতা, তারকাসমৃদ্ধ স্কোয়াড এবং বড় ম্যাচে সফলতার ইতিহাস ফরাসিদের আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিচ্ছে।
তবে কোয়ার্টার ফাইনালের এই ম্যাচে অতীতের পরিসংখ্যান খুব বেশি গুরুত্ব নাও পেতে পারে। মরক্কো ইতোমধ্যেই প্রমাণ করেছে, বড় দলকে চাপে ফেলতে তারা সক্ষম। ২০২২ সালের সাফল্যের ধারাবাহিকতায় এবারও তারা যদি একই দৃঢ়তা ধরে রাখতে পারে, তাহলে ফ্রান্সের জন্য অপেক্ষা করতে পারে কঠিন পরীক্ষা।
বিশ্ব ফুটবল এখন তাকিয়ে আছে ৯ জুলাইয়ের সেই মহারণের দিকে। ইউরোপের শক্তিশালী ফ্রান্স নাকি আফ্রিকার স্বপ্নবাহী মরক্কো—কে জায়গা করে নেবে সেমিফাইনালে, সেটিই এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন।



