অবিশ্বাস্য এক প্রত্যাবর্তনের গল্প লিখেছে আর্জেন্টিনা। বিশ্বকাপের দ্বিতীয় সেমিফাইনালে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থেকেও অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন করেছে আর্জেন্টিনা। লিওনেল মেসির নেতৃত্বে শেষ মুহূর্তের দুই গোলে ইংল্যান্ডকে ২-১ ব্যবধানে হারিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছে আলবিসেলেস্তেরা। শিরোপা নির্ধারণী ম্যাচে তাদের প্রতিপক্ষ স্পেন।
ম্যাচের শুরু থেকেই বলের দখলে এগিয়ে ছিল আর্জেন্টিনা। তবে ইংল্যান্ডও পাল্টা আক্রমণে কয়েকবার হুমকি তৈরি করে। প্রথমার্ধে উভয় দলই একাধিক সুযোগ পেলেও গোলের দেখা মেলেনি। আর্জেন্টিনার হয়ে লিওনেল মেসি, হুলিয়ান আলভারেজ ও আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টারের প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়। অন্যদিকে ইংল্যান্ডের হ্যারি কেন ও বুকায়ো সাকার শটও লক্ষ্যে থাকেনি।
বিরতির পর আক্রমণের গতি বাড়ায় ইংল্যান্ড। ৫৫তম মিনিটে ডান প্রান্ত থেকে মরগান রজার্সের নিখুঁত ক্রসে অ্যান্থনি গর্ডন ডান পায়ের জোরালো শটে গোল করে ইংল্যান্ডকে ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন। গোল হজমের পর আরও আক্রমণাত্মক হয়ে ওঠে আর্জেন্টিনা। একের পর এক আক্রমণ চালিয়েও জর্ডান পিকফোর্ডকে পরাস্ত করতে পারছিল না মেসির দল।
শেষ পর্যন্ত ৮৫তম মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত সমতা। লিওনেল মেসির নেওয়া শর্ট কর্নার থেকে বল পেয়ে বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত শটে জাল কাঁপান এনজো ফার্নান্দেজ। ১-১ সমতায় ফেরার পর ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে নেয় আর্জেন্টিনা।
নির্ধারিত সময়ের অতিরিক্ত সময়ে, ১২০+১ মিনিটে ম্যাচের ভাগ্য বদলে দেন অধিনায়ক মেসি। মাঝমাঠ থেকে নিখুঁত থ্রু পাসে ইংল্যান্ডের রক্ষণ ভেদ করে ডান দিক দিয়ে বক্সে ঢুকে নিচু শটে জয়সূচক গোল করেন নাহুয়েল মোলিনা। সেই গোলেই ২-১ ব্যবধানে জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।
ম্যাচজুড়ে মেসির অসাধারণ নেতৃত্ব, বল নিয়ন্ত্রণ ও সৃজনশীল পাসিং আর্জেন্টিনার আক্রমণে নতুন মাত্রা যোগ করে। শেষ দুই গোলেই সরাসরি অবদান রেখে দলকে ফাইনালে তোলেন আটবারের ব্যালন ডি’অরজয়ী এই তারকা।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের ফাইনালে জায়গা করে নিয়েছে আর্জেন্টিনা। আগামী ১৯ জুলাই শিরোপা নির্ধারণী লড়াইয়ে স্পেনের মুখোমুখি হবে মেসির দল। অন্যদিকে তৃতীয় স্থান নির্ধারণী ম্যাচে ফ্রান্সের বিপক্ষে খেলবে ইংল্যান্ড।



