জাতীয় সংসদকে দেশের মজলুম ও সাধারণ মানুষের আশা-আকাঙ্ক্ষার ‘মিলনমেলা’ হিসেবে গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, সংসদের কার্যক্রম যত বেশি সুন্দর, কার্যকর ও নিয়মতান্ত্রিক হবে, ততই মানুষের হতাশা দূর হবে এবং গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানের প্রতি আস্থা বাড়বে।
বুধবার জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপনী বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, দেশের অন্যতম প্রধান সমস্যা দুর্নীতি। এটি দমনে কঠোর অবস্থান নিতে হবে। তিনি অর্থমন্ত্রীর উদ্দেশে বলেন, আর্থিক খাতে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে হলে দুর্নীতির শিকড় উপড়ে ফেলতে হবে। দুর্নীতিবাজদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে আর কেউ জনগণের সম্পদ লুটের সাহস না পায়।
জাতীয় সংসদের গুরুত্ব তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান সংসদকে তিনি একটি ব্যতিক্রমী সংসদ হিসেবে দেখেন। এটি দেশের মানুষের আশা-ভরসার জায়গা হয়ে উঠতে পারে। সংসদকে আরও কার্যকর ও অংশগ্রহণমূলক করতে সরকার ও বিরোধী দলের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সহযোগিতার পরিবেশ প্রয়োজন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
উন্নয়ন কার্যক্রমে সুষম বণ্টনের ওপর গুরুত্বারোপ করে বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, রাজনৈতিক বৈষম্যের কারণে সাধারণ মানুষ যেন তাদের ন্যায্য অধিকার থেকে বঞ্চিত না হয়। একই সঙ্গে বিরোধী দলের সদস্যদের প্রতিও ন্যায়সঙ্গত আচরণ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।
সরকারি অর্থ অপচয়ের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সরকারি অর্থে কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক নেতার নামে স্থাপনার নামকরণ বা নামফলক স্থাপনের সংস্কৃতি বন্ধ হওয়া উচিত। সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব নামফলক পরিবর্তনে বিপুল পরিমাণ সরকারি অর্থের অপচয় হয়, যা দেশের জন্য ক্ষতিকর। তিনি বলেন, কেউ চাইলে নিজের অর্থায়নে প্রতিষ্ঠান গড়ে নিজের নাম দিতে পারেন, কিন্তু জনগণের অর্থে ব্যক্তিকেন্দ্রিক প্রচার গ্রহণযোগ্য নয়।
বাজেট ও গুরুত্বপূর্ণ বিল পাসের প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, সম্প্রতি জাতীয় স্বার্থসংশ্লিষ্ট একটি গুরুত্বপূর্ণ বিল সংসদে পাস হলেও তা নিয়ে বিরোধী দলের সদস্যদের বিস্তারিত আলোচনা ও মতামত দেওয়ার পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল না। ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নের ক্ষেত্রে বিরোধী দলের সদস্যদের যথাযথভাবে মতামত উপস্থাপনের সুযোগ নিশ্চিত করার আহ্বান জানান তিনি।



