আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠকে বসবে সচিব কমিটি
নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নসংক্রান্ত সুপারিশমালা এখনও চূড়ান্ত করতে পারেনি সচিব কমিটি। মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নেতৃত্বে বুধবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত বৈঠকেও এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আগামী সপ্তাহে আবারও বৈঠকে বসবে কমিটি।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বৈঠকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিভিন্ন দিক, সরকারের আর্থিক সক্ষমতা, বিদ্যমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, বাস্তবায়নের ধাপ এবং সম্ভাব্য প্রভাব নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। এসব বিষয় পর্যালোচনা করে সচিব কমিটি সরকারের কাছে একটি সুপারিশমালা দেবে। সেই সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
এদিকে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) একটি প্রতিনিধি দল ১২ জুলাই থেকে ঢাকা সফর করছে। তারা অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের বিষয়েও আলোচনা করেছে। আইএমএফের মতে, প্রয়োজনীয় অর্থের উৎস নিশ্চিত না করে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন করলে আর্থিক চাপ বাড়তে পারে। বিশেষ করে মূল্যস্ফীতির ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কার কথাও তারা উল্লেখ করেছে।
২০টি গ্রেড নিয়েও আলোচনা
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্র জানায়, বুধবারের বৈঠকে পে কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী নতুন পে-স্কেলে ২০টি গ্রেড বহাল রাখা হবে নাকি এতে পরিবর্তন আনা হবে—সেটিও আলোচনা হয়েছে। গ্রেডের সংখ্যা কমানো বা পুনর্বিন্যাসের বিষয়েও মতামত উঠে এসেছে।
যদিও অন্তর্বর্তী সরকার নতুন পে-স্কেলের ঘোষণা দিয়েছিল, বর্তমান সরকারও তা বাস্তবায়নের বিষয়ে নীতিগতভাবে আগ্রহী। এ লক্ষ্যে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতার জন্য ৮৯ হাজার ৮৩৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। পেনশন ও গ্র্যাচুইটিসহ মোট বরাদ্দ দাঁড়িয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৪৩৪ কোটি টাকা। এছাড়া নতুন পে-স্কেলের আংশিক বাস্তবায়ন, এমপিওভুক্ত শিক্ষক-কর্মচারীদের সুবিধা এবং পেনশনভোগীদের সমন্বিত সুবিধা প্রদানের জন্য অতিরিক্ত প্রায় ৪৪ হাজার কোটি টাকার আর্থিক সংস্থানের পরিকল্পনা রয়েছে।
সফটওয়্যার কাঠামো পরিবর্তনের বিষয়ও আলোচনায়
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা রয়েছে। অর্থ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বর্তমানে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন-ভাতা সম্পূর্ণ ডিজিটাল ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। ইলেকট্রনিক ফান্ড ট্রান্সফার (ইএফটি) এবং আইবাস প্লাস সফটওয়্যারের মাধ্যমে মাসিক বেতন, ইনক্রিমেন্ট, পেনশন, গ্র্যাচুইটি ও অন্যান্য আর্থিক সুবিধা দেওয়া হয়।
ফলে ধাপে ধাপে নতুন বেতন কাঠামো কার্যকর করতে হলে পুরো সফটওয়্যার কাঠামোতে পরিবর্তন আনতে হবে, যা একটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ। বৈঠকে এ বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হলেও এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
পে কমিশনের সুপারিশ ও বর্তমান প্রস্তাব
২০২৫ সালে সাবেক অর্থসচিব জাকির আহমেদ খানের নেতৃত্বাধীন জাতীয় বেতন কমিশন সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ১০০ থেকে ১৪২ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করেছিল। কমিশনের প্রস্তাবে সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ বেতন ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ ছিল।
তবে পরিবর্তিত অর্থনৈতিক বাস্তবতায় বর্তমান সরকার সেই সুপারিশ পুরোপুরি গ্রহণ করেনি। পরে মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটি রাজস্ব আয়, মূল্যস্ফীতি, বাজেট ঘাটতি, সরকারি ব্যয় এবং সামগ্রিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় নতুন একটি খসড়া প্রস্তাব তৈরি করেছে। বর্তমানে সেই খসড়ার ভিত্তিতেই সুপারিশ চূড়ান্ত করার কাজ চলছে।
অর্থ বিভাগ সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত বেতন ৬০ থেকে ৭০ শতাংশ এবং দশম থেকে বিংশ গ্রেড পর্যন্ত ৯০ থেকে ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বৃদ্ধির একটি প্রস্তাব বিবেচনায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।



