রাজধানীর মোহাম্মদপুরের লালমাটিয়া এলাকায় ফুচকার দোকানের ভ্যানের ধাক্কাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে চারজন আহত হয়েছেন। এ সময় দেশীয় ধারালো অস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। আহতদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর। তারা শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে লালমাটিয়া ব্লক-এ পানির ট্যাংকের সামনে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় শুক্রবার ফারজানা কবির শান্ত বাদী হয়ে মোহাম্মদপুর থানায় মামলা করেছেন। মামলায় ফারহান ফুচকার দোকানের মুন্নাসহ আটজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। অজ্ঞাতনামা আরও ১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
মোহাম্মদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মেজবাহ উদ্দিন বলেন, একটি ফুচকার দোকানের ভ্যানের ধাক্কাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি হয়। এতে উভয় পক্ষের দুইজন করে মোট চারজন আহত হয়েছেন। এক পক্ষ মামলা করেছে। এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিষয়টি তদন্তাধীন।
মামলার এজাহারে বলা হয়, ৩০ জুলাই দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে বাদী ফারজানা কবির শান্ত তার তিন বছরের সন্তান, স্বামী আবু নাইম, শাশুড়ি ও দুই ননদকে নিয়ে পুরান ঢাকা থেকে বাসায় ফিরছিলেন। লালমাটিয়া ব্লক-এ পানির ট্যাংকের সামনে পৌঁছালে অভিযুক্তরা একটি ফুচকার ভ্যান দিয়ে তাদের প্রাইভেট কারের গতিরোধ করেন। পরে একটি প্রাইভেট কার ও কয়েকটি মোটরসাইকেল দিয়ে গাড়িটি ঘিরে ফেলা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, ঘটনার কারণ জানতে চাইলে বাদীর স্বামী আবু নাইমকে এলোপাতাড়ি মারধর করে রাস্তায় ফেলে লাথি মারা হয়। খবর পেয়ে তার দুই ভাই আব্দুল্লাহ আল নাহিদ ও নাজমুল হাসান ঘটনাস্থলে গেলে তাদের ওপরও হামলা করা হয়। মামলার প্রধান আসামি ফারহান মুন্না ধারালো চাকু দিয়ে নাহিদের মাথায় আঘাত করেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে। অন্যরা সামুরাইয়ের উল্টো পাশ দিয়ে নাহিদ ও নাজমুলকে আঘাত করেন এবং লাথি-ঘুষি মারেন।
গুরুতর আহত নাহিদ ও নাজমুলকে প্রথমে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাদের স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, আহতদের উদ্ধারে এগিয়ে এলে হামলাকারীরা বাদীর ননদের গলায় থাকা প্রায় এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ও একটি হাতঘড়ি এবং তার শাশুড়ির গলায় থাকা প্রায় চার ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেন। এসবের মোট মূল্য প্রায় ১১ লাখ ৬৫ হাজার টাকা বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ধারালো অস্ত্র দিয়ে প্রাইভেট কার ভাঙচুর করে প্রায় এক লাখ টাকার ক্ষতি করা হয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এলে হামলাকারীরা ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান।
চিকিৎসা ও পারিবারিক ব্যস্ততার কারণে মামলা করতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগের সত্যতা যাচাই ও ঘটনায় জড়িতদের শনাক্তে তদন্ত চলছে।



