চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় খল অভিনেতা আশরাফুল হক ওরফে ডনকে বিমানবন্দর থেকে আটক করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে।
রোববার (৯ আগস্ট) বিমানবন্দর এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। সালমান শাহ হত্যা মামলার তদন্তের অংশ হিসেবে ডনকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।
তবে ডনের আটকের বিষয়ে সিআইডির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিস্তারিত তথ্য এখনো পাওয়া যায়নি।
সালমান শাহ হত্যা মামলায় ডন
জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর মৃত্যুর ঘটনায় দীর্ঘ ২৯ বছর পর ২০২৫ সালের অক্টোবরে হত্যা মামলা করা হয়। মামলায় সালমান শাহর সাবেক স্ত্রী সামিরা হক, তার মা লতিফা হক লুসি, ব্যবসায়ী ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক আজিজ মোহাম্মদ ভাই, খলনায়ক ডনসহ ১১ জনকে আসামি করা হয়।
মামলায় ডনের নাম আসার পর ২০২৫ সালের ২৭ অক্টোবর আদালত তার দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন। একই সঙ্গে মামলার অন্য আসামিদেরও দেশত্যাগ ঠেকাতে ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষকে তথ্য দেওয়া হয়।
এর আগে ডন অবশ্য সালমান শাহ হত্যার অভিযোগ অস্বীকার করে আসছেন। তিনি গণমাধ্যমকে জানিয়েছিলেন, সালমান শাহর সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠ বন্ধুত্ব ছিল।
তদন্তে নতুন মোড়
সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটনে মামলাটির অধিকতর তদন্ত করছে সিআইডি। তদন্তের অংশ হিসেবে চলতি বছরের মে মাসে সালমান শাহর মরদেহ কবর থেকে উত্তোলন করে সুরতহাল ও ময়নাতদন্ত করার অনুমতি চেয়ে আদালতে আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা। পরে আদালত এ বিষয়ে অনুমতি দেন।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসা থেকে সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ওই ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা হয়েছিল। পরবর্তী সময়ে তার পরিবার মৃত্যুটিকে হত্যাকাণ্ড দাবি করে আইনি লড়াই চালিয়ে যায়।
সিআইডি ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর দেওয়া তদন্ত প্রতিবেদনে সালমান শাহর মৃত্যুকে আত্মহত্যা বলে উল্লেখ করেছিল। পরে দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়ার পর আদালতের নির্দেশে ঘটনাটি হত্যা মামলা হিসেবে তদন্তের পর্যায়ে আসে।
৩০ আগস্ট তদন্ত প্রতিবেদন
সালমান শাহ হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ৩০ আগস্ট দিন ধার্য করেছেন আদালত। ২৩ জুলাই নির্ধারিত তারিখে প্রতিবেদন দিতে না পারায় ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. জুয়েল রানা নতুন তারিখ নির্ধারণ করেন।
এ অবস্থায় মামলার অন্যতম আসামি খল অভিনেতা ডনকে বিমানবন্দর থেকে সিআইডির হেফাজতে নেওয়ার খবর তদন্তে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। তবে তার আটকের কারণ, জিজ্ঞাসাবাদের সময়কাল এবং পরবর্তী আইনি পদক্ষেপ সম্পর্কে সিআইডির আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হবে।



