রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) আসন্ন নির্বাচনে মেয়র পদে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দলীয় প্রার্থী হিসেবে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) বিকেলে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সভায় তাকে প্রার্থী করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। পরে সন্ধ্যায় দলটির পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।
ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর বর্তমানে জামায়াতে ইসলামীর রাজশাহী মহানগর শাখার নায়েবে আমিরের দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি রাজশাহী মহানগর ছাত্রশিবিরের সভাপতি এবং মহানগর জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারির দায়িত্বে ছিলেন। দীর্ঘদিন ধরে সাংগঠনিক ও সামাজিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকায় রাজশাহীর রাজনৈতিক অঙ্গনে তিনি পরিচিত মুখ।
পেশায় চিকিৎসক ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর রাজশাহী ইসলামী ব্যাংক মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে কর্মরত। এর আগে সর্বশেষ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজশাহী-২ (সদর) আসনে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তিনি। ওই নির্বাচনে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক ভোটও পান।
এবার তাকে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদে দলীয় প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন দিয়েছে জামায়াতে ইসলামী।
মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জামায়াতে ইসলামী রাজশাহী মহানগর শাখার সহপ্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান আশুর পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, দীর্ঘ সাংগঠনিক পথচলা, চিকিৎসাসেবায় ভূমিকা এবং দলীয় নেতৃত্বে অভিজ্ঞতার কারণে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরকে রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র পদে গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক মুখ হিসেবে বিবেচনা করছে জামায়াতে ইসলামী।
দলটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা ও সামাজিক কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি চিকিৎসাসেবায় তার ভূমিকা রাজশাহীর মানুষের কাছে তাকে আরও পরিচিত করে তুলেছে। এসব বিষয় বিবেচনায় নিয়ে আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে তাকে মেয়র প্রার্থী হিসেবে বেছে নেওয়া হয়েছে।
জামায়াতের এই সিদ্ধান্তের মধ্য দিয়ে রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনকে ঘিরে দলটির নির্বাচনী তৎপরতা আরও স্পষ্ট হলো। একই সঙ্গে মেয়র পদে প্রার্থী ঘোষণার ফলে নগরীর রাজনৈতিক অঙ্গনে নির্বাচনী হিসাব-নিকাশও শুরু হয়েছে।
রাজশাহী সিটি করপোরেশন নির্বাচনে জামায়াতের মেয়র প্রার্থী হিসেবে ডা. মোহাম্মদ জাহাঙ্গীরের নাম ঘোষণার পর এখন অন্যান্য রাজনৈতিক দল ও সম্ভাব্য প্রার্থীদের অবস্থানও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। ফলে নির্বাচন যত এগিয়ে আসবে, নগরীর ভোটের রাজনীতিতে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আরও দৃশ্যমান হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।



