গাজীপুরে ২৪ ঘণ্টায় রহস্য উদ্ঘাটন, গ্রেপ্তার ৩
গাজীপুরের কাপাসিয়ায় অটোরিকশা ছিনতাই করতে গিয়ে চালক আতাউর রহমান (৬০)কে হত্যার রহস্য ২৪ ঘণ্টার মধ্যে উদ্ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তার দুজন আদালতে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে জবানবন্দি দিয়েছেন।
নিহত আতাউর রহমান কাপাসিয়া উপজেলার নরোত্তমপুর এলাকার বাসিন্দা। ছেলের হত্যার খবর শুনে হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া বন্ধ হয়ে তার মা জহুরা খাতুন (৭৫)ও মারা যান।
পিবিআই জানায়, গত ২০ আগস্ট বিকেলে আতাউর রহমান ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হন। ওই দিন সন্ধ্যায় কাপাসিয়ার সনমানিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণগাঁও এলাকার মির্জানগর বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের পাশে একটি নির্জন কলাবাগানের সামনে তাকে হত্যা করা হয়। পরে তার অটোরিকশা ও মোবাইল ফোন নিয়ে পালিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা।
এ ঘটনায় নিহতের ছেলে বাদী হয়ে ২১ আগস্ট কাপাসিয়া থানায় অজ্ঞাতনামা আসামিদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। পরদিন ২২ আগস্ট পিবিআই গাজীপুর জেলা স্বতঃপ্রণোদিতভাবে মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে।
তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে ওই দিনই কাপাসিয়ার ঘাগুটিয়া চালার বাজার এলাকা থেকে রাজীব খান (২৯) এবং নরোত্তমপুর এলাকা থেকে নকিবুল হাসান ওরফে রাকিব (২৪)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নরসিংদীর মনোহরদী থানার হাতিরদিয়া বাসস্ট্যান্ডে ‘আল-মদিনা এন্টারপ্রাইজ’ নামের একটি দোকান থেকে ছিনতাই করা অটোরিকশাটি উদ্ধার করা হয়।
অটোরিকশাটি কেনা ও হেফাজতে রাখার অভিযোগে দোকান মালিক মো. কিবরিয়া (৪২)কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের কাছ থেকে অটোরিকশা বিক্রির ২২ হাজার টাকা এবং হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত রক্তমাখা লোহার রড, হাতুড়ি ও রশি উদ্ধার করা হয়েছে।
পিবিআইয়ের তদন্তে জানা যায়, ঋণের দায়ে জর্জরিত হয়ে রাজীব ও নকিবুল অটোরিকশা ছিনতাইয়ের পরিকল্পনা করেন। আতাউর রহমান নকিবুলের দূরসম্পর্কের আত্মীয় হওয়ায় তাকেই সহজ লক্ষ্য হিসেবে বেছে নেন তারা। পরে মির্জানগর যাওয়ার কথা বলে চালার বাজার এলাকা থেকে আতাউরের অটোরিকশা ভাড়া করেন রাজীব ও নকিবুল।
নির্জন স্থানে নিয়ে দড়ি দিয়ে গলা চেপে এবং লোহার রড ও হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করে আতাউর রহমানকে হত্যা করা হয়। পরে অটোরিকশাটি নিয়ে পালিয়ে যান তারা। এরপর নরসিংদীর মনোহরদীর হাতিরদিয়া বাসস্ট্যান্ডে ‘আল-মদিনা এন্টারপ্রাইজ’-এর মালিক কিবরিয়ার কাছে অটোরিকশাটি ৪২ হাজার টাকায় বিক্রি করেন।
পিবিআই জানিয়েছে, হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে আরও কেউ জড়িত আছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। মামলার তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
পিবিআই প্রধান অতিরিক্ত আইজিপি মো. মোস্তফা কামালের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং পিবিআই গাজীপুর জেলার পুলিশ সুপার মো. রকিবুল আক্তারের নিবিড় তত্ত্বাবধানে মামলাটির তদন্ত চলছে।



