বগুড়া থেকে ঢাকায় চিকিৎসক দেখাতে এসে ছিনতাইকারীর টানে রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে প্রাণ গেল রনজিনা পারভীন (৫৫) নামে এক প্রধান শিক্ষিকার। শনিবার ভোরে রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে এ ঘটনা ঘটে। মোটরসাইকেলে আসা ছিনতাইকারীরা রিকশায় থাকা ওই শিক্ষিকার ব্যাগ ধরে টান দিলে তিনি রাস্তায় পড়ে গুরুতর আহত হন। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
নিহত শিক্ষিকা রনজিনা পারভীন বগুড়ার গাবতলী উপজেলার বাগবাড়ি বালিকা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষিকা ছিলেন। তার গ্রামের বাড়ি একই উপজেলার সোনাকানিয়া এলাকায়। তার স্বামী মো. আব্দুল মতিন স্থানীয় ব্যবসায়ী। তাদের এক মেয়ে রয়েছে। পরিবার নিয়ে গ্রামের বাড়িতেই থাকতেন রনজিনা।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শুক্রবার রাতে চোখের চিকিৎসার জন্য বগুড়া থেকে ঢাকায় আসেন রনজিনা পারভীন। রাজধানীর ফার্মগেট এলাকায় ইস্পাহানী ইসলামিয়া চক্ষু ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে চিকিৎসক দেখানোর কথা ছিল তার। শনিবার ভোরে গাবতলী বাস টার্মিনালে থেকে একটি রিকশা নিয়ে ফার্মগেটের উদ্দেশে রওনা দেন।
ভোর সাড়ে ৫টার দিকে রিকশাটি মানিক মিয়া এভিনিউ সড়ক দিয়ে পূর্ব দিকে পৌঁছালে পেছন থেকে একটি মোটরসাইকেলে করে দুই ছিনতাইকারী তার ব্যাগ ধরে টান দেয়। ব্যাগটি ধরে রাখতে চেষ্টা করেন তিনি।
একপর্যায়ে ছিনতাইকারীদের টানে ভারসাম্য হারিয়ে রিকশা থেকে সড়কে ছিটকে পড়ে মাথায় গুরুতর আহত হন। পরে গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
শেরেবাংলা নগর থানার ওসি মো. মনিরুল ইসলাম বলেন, ‘ঘটনাটি ছিনতাইয়ের বলে প্রাথমিকভাবে জানা গেছে। মোটরসাইকেলে থাকা ব্যক্তিরা রিকশায় থাকা নারীর ব্যাগ ধরে টান দেওয়ার পর তিনি রাস্তায় পড়ে যান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে তার মৃত্যু হয়।’
তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলের আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অন্যান্য তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে ছিনতাইকারীদের শনাক্ত ও গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে। এ ঘটনায় মামলা প্রক্রিয়াধীন।’
ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের উপকমিশনার (ডিসি) ইবনে মিজান বলেন, ‘ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করতে পুলিশ কাজ করছে। ছিনতাইয়ে ব্যবহৃত মোটরসাইকেলটি শনাক্তের পাশাপাশি জড়িত ব্যক্তিদের গ্রেফতারের চেষ্টা চলছে।’
নিহতের পারিবারিক সূত্র জানায়, চোখের চিকিৎসার জন্যই রনজিনা পারভীন ঢাকায় এসেছিলেন। চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার পথেই ছিনতাইকারীদের কবলে পড়ে তাকে প্রাণ দিতে হলো। নিহতের স্বামী মো. আব্দুল মতিনের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এর আগেও একই কায়দায় প্রাণ গেছে আরেক নারীর:
চলতি বছরের ৭ জুন ভোরে একইভাবে ছিনতাইকারীর হেঁচকাটানে রিকশা থেকে পড়ে গুরুতর আহত হন দিনাজপুরের পার্বতীপুরের বাসিন্দা সোহেলি ইসলাম (৪২)। গ্রামের বাড়ি থেকে ওই দিন ভোর সকালে ঢাকায় আসার পর গাবতলী থেকে একমাত্র মেয়েকে নিয়ে রিকশায় করে বাসায় ফিরছিলেন। পথে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনে মোটরসাইকেলে থাকা দুই ছিনতাইকারী তার ভ্যানিটি ব্যাগ ধরে টানাহেঁচড়া শুরু করে।
একপর্যায়ে চলন্ত রিকশা থেকে ছিটকে পড়ে মাথার পেছনে গুরুতর আঘাত পান তিনি। পরে চার দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর ১১ জুন ধানমন্ডির একটি বেসরকারি হাসপাতালে মারা যান সোহেলি।
সোহেলি একটি ওষুধ কোম্পানিতে মেডিক্যাল সার্ভিস অফিসার হিসেবে কর্মরত ছিলেন। পারিবারিক অনুষ্ঠানে অংশ নিতে মেয়েকে নিয়ে দিনাজপুরের গ্রামের বাড়িতে গিয়েছিলেন তিনি। ভোরে গাবতলী থেকে রিকশায় বাসায় ফেরার পথে ছিনতাইকারীদের কবলে পড়েন।



