ঘোড়ার গাড়িতে বাড়ি ফিরলেন প্রধান শিক্ষক

কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার বালারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন দীর্ঘ ৩৮ বছরের শিক্ষকতা জীবনের কর্মদিনের ইতি টানলেন।

বালারহাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন ৩৮ বছরের শিক্ষকতা জীবনের কর্মদিনের ইতি টানলেন

প্রিয় শিক্ষকের বিদায়কে স্মরণীয় করে রাখতে শিক্ষক, এসএমসি কমিটির সদস্য, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী, অভিভাবক এবং বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের প্রধানরা সংবর্ধনা উপলক্ষে রবিবার দুপুরে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে বর্ণাঢ্য  আয়োজনে তাকে সম্মাননা ও ভালোবাসায় বিদায় জানানো হয়।

শিক্ষক ও এসএমসি কমিটির সভাপতি এবং সাবেক সহকারী শিক্ষক তৈয়ব আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রভাষক আইয়ুব আলী।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ। এছাড়া বক্তব্য রাখেন বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান সরকার, নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার, সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদীন, নাওডাঙ্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক শাহাজাদা মিয়াসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক, অভিভাবক ও সাবেক-বর্তমান শিক্ষার্থীরা।

বক্তারা বলেন, দীর্ঘ কর্মজীবনে প্রধান শিক্ষক দেলোয়ার হোসেন সততা, নিষ্ঠা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে বিদ্যালয়ের শিক্ষার পরিবেশ উন্নয়নে কাজ করেছেন। তার অবসর বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের জন্য আবেগঘন একটি মুহূর্তের সৃষ্টি হয়।

বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন

বিদায়ী প্রধান শিক্ষক মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, ১৯৮৮ সালের ১৬ জানুয়ারি শিক্ষকতা জীবন শুরু করেন তিনি। দীর্ঘ ৩৮ বছর শিক্ষকতা শেষে শেষ কর্মদিবসে তিনি সহকর্মী, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের কাছে অবসর-পরবর্তী জীবনের জন্য দোয়া কামনা করেন। কর্মজীবনে তার কোনো ভুল-ত্রুটি হয়ে থাকলে সেজন্য সবার কাছে ক্ষমাও প্রার্থনা করেন।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুল লতিফ বলেন, দেলোয়ার হোসেন সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দীর্ঘদিন বিদ্যালয়টি পরিচালনা করেছেন। তার বিদায়ের পর শিক্ষক সংকটের কারণে শিক্ষার্থীদের পাঠদান যাতে ব্যাহত না হয়, সে জন্য দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় শিক্ষক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।

সংবর্ধনা অনুষ্ঠান শেষে বিকালে প্রিয় প্রধান শিক্ষককে ঘোড়ার গাড়িতে করে বাড়িতে পৌঁছে দেন তার সহকর্মী, বর্তমান ও সাবেক শিক্ষার্থী এবং এসএমসি কমিটির সদস্য ও অভিভাবকরা। এ সময় এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়। প্রিয় শিক্ষককে বিদায় জানাতে গিয়ে অনেক শিক্ষার্থী, সহকর্মী ও অভিভাবকের চোখে দেখা যায় অশ্রুসিক্ত ভালোবাসা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments