উদ্বোধনের দিনেই রাজধানীর মিরপুরে ‘লাইভ শপিং’ ফ্যাক্টরি আউটলেটে হট্টগোল, হামলা ও লুটপাটের অভিযোগ উঠেছে। শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) বিকেলে পল্লবী মেট্রো স্টেশনসংলগ্ন মডার্ন কনভেনশন হল ভবনের পঞ্চম তলায় নতুন এ আউটলেটকে ঘিরে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয় এবং আউটলেটটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
ঘটনার সূত্রপাত হয় বিশেষ ছাড়ে পণ্য বিক্রিকে কেন্দ্র করে। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, উদ্বোধন উপলক্ষে আউটলেটটিতে বড় ধরনের মূল্যছাড়ের ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল। তবে অফারের সঙ্গে ‘শর্ত প্রযোজ্য’ কথাটি ছোট করে ‘সিএ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি অনেক ক্রেতার নজরে আসেনি বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে ক্রেতারা আউটলেটে গিয়ে শর্ত সম্পর্কে জানতে চাইলে বিক্রেতাদের সঙ্গে তাদের বাকবিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে হট্টগোলে রূপ নেয়।
পল্লবী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হাসান বাছির জানান, অফারের বিষয়ে গ্রাহকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছিল। প্রতিষ্ঠানটি ‘শর্ত প্রযোজ্য’ বোঝাতে সংক্ষেপে ‘সিএ’ লিখেছিল। ক্রেতারা বিষয়টি বুঝতে না পেরে বা পরে জানতে পেরে ক্ষুব্ধ হন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করে। পরে আউটলেটটি সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে ঘটনার পর নিজেদের ফেসবুক পেজে ‘লাইভ শপিং’ কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, কিছু লোক পরিকল্পিতভাবে আউটলেটে ঢুকে মব তৈরির চেষ্টা করে এবং পরে সেখানে লুটপাট চালানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে বলা হয়, বিভিন্ন পণ্য নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে সহায়তা চেয়ে একাধিক পোস্ট, ছবি ও ভিডিওও প্রকাশ করেছে প্রতিষ্ঠানটি।
একটি ফেসবুক পোস্টে প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে বলা হয়, তাদের মিরপুরের ‘লাইভ শপিং ফ্যাক্টরি আউটলেটে’ কিছু গ্রুপ ইচ্ছাকৃতভাবে ঢুকে মব তৈরির চেষ্টা করছে। পরে আরেক পোস্টে আউটলেটটি লুটপাটের শিকার হওয়ার অভিযোগ জানানো হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী আশিক খানের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও মব সৃষ্টিকারীদের বিরুদ্ধে অভিযোগসংবলিত ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে।
তবে লুটপাটের অভিযোগের বিষয়ে পল্লবী থানার ওসি হাসান বাছির ভিন্ন তথ্য দিয়েছেন। তিনি জানান, হট্টগোলের খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে নেয়। আউটলেটটি বন্ধ করে দেওয়ার পর গ্রাহকরাও চলে যান। তবে লুটপাটের বিষয়ে তাঁর কাছে কোনো তথ্য নেই। কোনো গ্রাহক প্রতারিত হয়ে থাকলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিষ্ঠানটির ওয়েবসাইটে দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, মিরপুর শপিং সেন্টারের দ্বিতীয় শাখার পাশাপাশি মিরপুরে তাদের ফ্যাক্টরি আউটলেটও রয়েছে। এর আগে প্রতিষ্ঠানটি ২০২২ সালে মিরপুর-২ নম্বরে বড় পরিসরে শাখা চালু করেছিল।
ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও পোস্টে আউটলেটের সামনে বিপুলসংখ্যক মানুষের ভিড়, হট্টগোল এবং পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশের উপস্থিতির দৃশ্য দেখা যাচ্ছে। তবে লুট হওয়া পণ্যের পরিমাণ বা ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট হিসাব এখনো পাওয়া যায়নি। পুলিশের পক্ষ থেকেও এ বিষয়ে কোনো মামলা বা আটকের তথ্য জানানো হয়নি।
অফারের শর্ত স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছিল কি না, গ্রাহকদের বিভ্রান্ত করার পেছনে কারও দায় রয়েছে কি না এবং লুটপাটের অভিযোগের সত্যতা কতটা—এসব বিষয় এখন তদন্তের মাধ্যমে পরিষ্কার হওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে।



