শনিবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায় নিউইয়র্কে মুখোমুখি হবেন বিশ্বের এক ও দুই নম্বর দুই তারকা
মেলবোর্নে বছরের প্রথম গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে যে আক্ষেপ জমেছিল, নিউইয়র্কে সেটি মুছে ফেলার সুযোগ পেলেন আরিনা সাবালেঙ্কা। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের সেই ফাইনালের প্রতিপক্ষ এলিনা রিবাকিনাই এবার তাঁর সামনে ইউএস ওপেনের শিরোপা লড়াইয়ে। ফলে বছরের শুরুতে হারানো শিরোপার প্রতিশোধের পাশাপাশি নিউইয়র্কে টানা তৃতীয়বার চ্যাম্পিয়ন হওয়ার হাতছানিও থাকছে বেলারুশের তারকার সামনে।
আজ শনিবার বাংলাদেশ সময় দিবাগত রাত ২টায় নিউইয়র্কের আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবেন বিশ্বের এক ও দুই নম্বর দুই তারকা। স্থানীয় সময় শনিবার বিকেল ৪টায় শুরু হবে বহুল প্রতীক্ষিত ফাইনাল।
সেমিফাইনালে সাবালেঙ্কা দাপট দেখিয়েছেন স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্রের জেসিকা পেগুলার বিপক্ষে। ৭-৫, ৬-২ গেমে জয় তুলে নিয়ে টানা চতুর্থবার ইউএস ওপেনের ফাইনালে উঠেছেন শীর্ষ বাছাই এই তারকা। মাত্র ৮০ মিনিটের লড়াইয়ে তিনি ২৯টি উইনার ও সাতটি এস মেরে পেগুলাকে কার্যত ম্যাচে দাঁড়াতেই দেননি।
ম্যাচ শেষে সাবালেঙ্কা জানান, ফাইনালে ওঠার জন্য তিনি ভীষণ মরিয়া ছিলেন। জয়ের জন্য যা কিছু করার প্রয়োজন, সেটি করতে প্রস্তুত ছিলেন বলেও জানান তিনি। পেগুলার ভাষায়, সাবালেঙ্কার খেলার মান ছিল ‘অবিশ্বাস্য রকমের উঁচুতে’; এমন পারফরম্যান্সের বিপক্ষে তাঁর খুব বেশি কিছু করার ছিল না।
অন্য সেমিফাইনালে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনে কোকো গফকে হারিয়েছেন দ্বিতীয় বাছাই রিবাকিনা। প্রথম সেট ৩-৬ ব্যবধানে হারার পরও হাল ছাড়েননি কাজাখস্তানের এই তারকা। পরের দুই সেটে ৬-৪, ৬-৪ ব্যবধানে জিতে নিশ্চিত করেছেন ক্যারিয়ারের প্রথম ইউএস ওপেন ফাইনাল। একই সঙ্গে এটি তাঁর চতুর্থ গ্র্যান্ড স্ল্যাম ফাইনাল।
রিবাকিনার জন্য জয়টি আরও তাৎপর্যপূর্ণ। চলতি বছরের শুরুতেই তিনি সাবালেঙ্কাকে হারিয়ে অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের শিরোপা জিতেছিলেন। এবার নিউইয়র্কে সেই প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায়। সেমিফাইনালে রিবাকিনা গফের ১১ ম্যাচের জয়ের ধারাও থামিয়ে দিয়েছেন। গফের বিপক্ষে দুর্দান্ত সার্ভ ও গভীর রিটার্ন দিয়ে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধীরে ধীরে নিজের হাতে নেন তিনি।
এই দুই তারকার লড়াই ইতোমধ্যেই নারী টেনিসের অন্যতম আকর্ষণীয় দ্বৈরথে পরিণত হয়েছে। ইউএস ওপেন ফাইনালটি হবে তাঁদের ১৮তম মুখোমুখি লড়াই। আগের ১৭ সাক্ষাতে সাবালেঙ্কা এগিয়ে ১০-৭ ব্যবধানে। গ্র্যান্ড স্ল্যামের ফাইনালে এটি হবে তাঁদের তৃতীয় সাক্ষাৎ। অস্ট্রেলিয়ান ওপেনের আগের দুই ফাইনালে একবার করে জয় পেয়েছেন দুজন—২০২৩ সালে সাবালেঙ্কা এবং ২০২৬ সালে রিবাকিনা।
তবে শিরোপার পাশাপাশি এবার ফাইনালের সঙ্গে জড়িয়ে আছে বিশ্ব র্যাঙ্কিংয়েরও বড় গল্প। ফল যা-ই হোক, আগামী সোমবার নতুন বিশ্ব এক নম্বর হিসেবে র্যাঙ্কিংয়ে উঠবেন রিবাকিনা। অর্থাৎ সাবালেঙ্কার হাতে শিরোপা উঠলেও শীর্ষস্থান ফিরে পাবেন না তিনি। রিবাকিনা ইতোমধ্যে ফাইনালে ওঠার পথেই প্রয়োজনীয় র্যাঙ্কিং ব্যবধান নিশ্চিত করেছেন।
সাবালেঙ্কার সামনে তাই ইতিহাস গড়ার সুযোগও রয়েছে। ইউএস ওপেনে টানা তৃতীয় শিরোপা জিততে পারলে ওপেন যুগে সেরেনা উইলিয়ামস ও ক্রিস এভার্টের পর বিরল এই কীর্তির তালিকায় নাম লেখাবেন তিনি। সেরেনা ২০১২ থেকে ২০১৪ সাল পর্যন্ত টানা তিনবার নিউইয়র্কের শিরোপা জিতেছিলেন। সাবালেঙ্কা জিতলে এটি হবে তার ক্যারিয়ারের পঞ্চম গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা।
অন্যদিকে রিবাকিনা জিতলে একই বছরে অস্ট্রেলিয়ান ওপেন ও ইউএস ওপেন—দুটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপা জয় করবেন। এর আগে তাঁর একমাত্র অন্য গ্র্যান্ড স্ল্যাম সাফল্য এসেছিল ২০২২ সালের উইম্বলডনে। ফলে দ্বিতীয় ইউএস ওপেন ফাইনালিস্ট হিসেবে নয়, নতুন বিশ্ব এক নম্বর হিসেবে নিউইয়র্ক থেকে বিদায় নেওয়ারও সুযোগ রয়েছে তাঁর সামনে।
ফাইনালের আগে দুই তারকাই প্রতিপক্ষের শক্তি সম্পর্কে সতর্ক। সাবালেঙ্কা মনে করছেন, রিবাকিনার বড় সার্ভ ও উন্নত বেসলাইন খেলা ম্যাচটিকে শারীরিক ও মানসিকভাবে কঠিন করে তুলবে। রিবাকিনাও জানেন, সাবালেঙ্কার বিপক্ষে সেরা সার্ভ, সঠিক সিদ্ধান্ত এবং মুহূর্তের চাপ সামলানোর ক্ষমতাই পার্থক্য গড়ে দিতে পারে।
পুরস্কারের দিক থেকেও এবারের ইউএস ওপেন ইতিহাস গড়েছে। নারী ও পুরুষ এককের চ্যাম্পিয়ন পাবেন রেকর্ড ৫৫ লাখ মার্কিন ডলার, আর রানার্সআপ পাবেন ২৮ লাখ ডলার। পুরো আসরে খেলোয়াড়দের জন্য মোট পুরস্কার ও সহায়তা মিলিয়ে রাখা হয়েছে ১০ কোটি ৮০ লাখ ডলার, যা টেনিস ইতিহাসে সর্বোচ্চ।
সব মিলিয়ে নিউইয়র্কের ফাইনালটি শুধু একটি গ্র্যান্ড স্ল্যাম শিরোপার লড়াই নয়—এটি মেলবোর্নের অসমাপ্ত গল্পেরও নতুন অধ্যায়। রিবাকিনা কি আবারও সাবালেঙ্কার স্বপ্ন ভাঙবেন, নাকি মেলবোর্নের ক্ষতে নিউইয়র্কেই প্রলেপ দিয়ে টানা তৃতীয় ইউএস ওপেন জিতবেন সাবালেঙ্কা—উত্তর মিলবে আর্থার অ্যাশ স্টেডিয়ামের মহারণে।



