দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরোর সাবেক প্রধান পুলক চ্যাটার্জির ঝুলন্ত মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শুক্রবার রাতে নগরীর সদর রোডের সমকাল বরিশাল অফিস থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ সময় অফিস থেকে পাঁচটি আত্মহত্যার নোট উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার সন্ধ্যার দিকে নগরীর সদর রোডের সমকাল বরিশাল অফিসে গলায় দড়ি দেওয়া অবস্থায় পুলক চ্যাটার্জির মরদেহ দেখতে পান স্থানীয়রা। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে অফিসের দরজা ভেঙে মরদেহ উদ্ধার করে।
পরে রাত ৯টার দিকে মরদেহটি বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়।
বরিশাল মহানগর পুলিশের কমিশনার আবু রায়হান মোহাম্মদ সালেহ বলেন, ঘটনাস্থল থেকে পাঁচটি আত্মহত্যার নোট পাওয়া গেছে। বিষয়টি তদন্তাধীন রয়েছে।
উদ্ধার হওয়া নোটগুলোর একটিতে পুলক চ্যাটার্জি তার মৃত্যুর জন্য কাউকে দায়ী না করার অনুরোধ করেছেন। দীর্ঘদিন শারীরিক অসুস্থতা ও যন্ত্রণায় ভোগার কথা উল্লেখ করে তিনি সুস্থ হওয়ার জন্য চিকিৎসা নেওয়ার কথাও লিখেছেন। প্রশাসনের কাছে কোনো ধরনের হয়রানি না করে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তরের অনুরোধ করেন তিনি।
স্ত্রী প্রিয়াঙ্কা ও মেয়ে প্রকৃতির উদ্দেশে লেখা নোটে পুলক তাদের কাছে ক্ষমা চেয়েছেন এবং মেয়েকে পড়াশোনা ও গান শেখা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। ছোট ভাই দীপক ও তার স্ত্রী ইতির উদ্দেশেও একটি নোট লিখেছেন তিনি।
এ ছাড়া বরিশাল প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসেন এবং দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরোর দায়িত্বপ্রাপ্ত সাংবাদিক সুমন চৌধুরীর উদ্দেশেও পৃথক নোট লেখেন পুলক চ্যাটার্জি। দীর্ঘদিনের সহকর্মীদের কাছে বিভিন্ন আচরণের জন্য দুঃখ প্রকাশ এবং ক্ষমা চেয়েছেন তিনি।
পুলিশ জানায়, আত্মহত্যার কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হতে ঘটনাটি তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। মরদেহ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
পুলক চ্যাটার্জি দৈনিক সমকালের বরিশাল ব্যুরোর প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২৩ সালের মে মাসে তিনি চাকরিচ্যুত হন। এরপর থেকেই তিনি হতাশায় ভুগছিলেন বলে স্বজন ও সহকর্মীদের কেউ কেউ জানিয়েছেন। মাঝেমধ্যে তিনি সমকাল বরিশাল অফিসে এসে বসতেন বলেও জানা গেছে।
পুলক চ্যাটার্জি বরিশাল প্রেসক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক এবং বর্তমান কার্যনির্বাহী কমিটির জ্যেষ্ঠ সদস্য ছিলেন। দীর্ঘদিন তিনি সাংবাদিকতা পেশার সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।



