ঢাকার কেরানীগঞ্জে অবস্থিত ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে অসুস্থ হয়ে দুই বন্দির মৃত্যু হয়েছে। রোববার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজন কয়েদির মৃত্যু হয়। অপর হাজতিকে অসুস্থ অবস্থায় ঢামেকে আনা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
মৃত দুই বন্দি হলেন—চট্টগ্রাম জেলার বাসিন্দা আব্দুল সোবহানের ছেলে হাজতি আব্দুল মাবুদ (৫৮) এবং নেত্রকোনা জেলার বাসিন্দা মৃত আব্দুল খালেকের ছেলে কয়েদি আব্দুল বারেক (৭০)। তবে তারা কোন মামলায় কারাগারে বন্দি ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
কারা সূত্রে জানা যায়, রোববার সকালে কারাগারের ভেতরে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন হাজতি আব্দুল মাবুদ। তার হাজতি নম্বর ৩৩১/২৬। পরে কারা কর্তৃপক্ষের নির্দেশে কারারক্ষীরা তাকে দ্রুত ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নিয়ে যান।
কারারক্ষী সাইফুল ইসলাম জানান, হাসপাতালে নেওয়ার পর চিকিৎসক মাবুদকে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে মৃত ঘোষণা করেন।
অন্যদিকে, কয়েদি আব্দুল বারেক (কয়েদি নম্বর ৩০০/২৬) গত শুক্রবার রাতে কারাগারে অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে তাকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। অবস্থার অবনতি হলে ওই রাতেই তাকে হাসপাতালের হৃদরোগ নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্রে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।
কারারক্ষী উজ্জ্বল হোসেন জানান, সিসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রোববার ভোর সাড়ে ৪টার দিকে আব্দুল বারেক মারা যান।
ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ক্যাম্পের পরিদর্শক মো. হাবিবুর রহমান দুই বন্দির মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, মরদেহ দুটি ময়নাতদন্তের জন্য ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করা হবে। এরপর ময়নাতদন্ত সম্পন্ন করে প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ দুটি কারা কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে।
ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই দুই বন্দির মৃত্যুর প্রকৃত কারণ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যাবে।



