বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর অভিযোগ করে বলেছেন,নির্বাচন বানচালের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে দিল্লিতে বসে শেখ হাসিনাকে আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়েছেন এস আলম। শুধু হাসিনাই নয়,কিছু রাজনৈতিক মহলও নিত্যনতুন দাবি আদায়ের নামে নির্বাচন বানচালের চেষ্টা করছে। সরকারের ভেতরে একটা মহল অত্যন্ত সচেতনভাবে চেষ্টা করছে গণতন্ত্রের পক্ষের শক্তি যেন ক্ষমতায় আসতে না পারে। এসব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে নির্বাচনের বিকল্প নেই। জুলাই সনদ সংস্কারের কাজে জটিলতা সৃষ্টি না করে দ্রুত তা শেষ করুন।
বুধবার রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে সাবেক প্রধানমন্ত্রী কাজী জাফর আহমদের ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ভাসানী অনুসারী পরিষদ ও ভাসানী জনশক্তি পার্টি আয়োজিত আলোচনা সভায় ফখরুল এসব কথা বলেন। ভাসানী জন শক্তি পার্টির চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম বাবলুর সভাপতিত্বে সভায় জাতীয় পার্টির (কাজী জাফর) চেয়ারম্যান মোস্তফা জামাল হায়দার, মহাসচিব আহসান হাবীব লিংকন, ভাসানী জনশক্তি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আবু ইউসুফ সেলিম ও প্রেসিডিয়াম সদস্য এডভোকেট মোহাম্মদ আলী বক্তব্য দেন।
ফখরুল বলেন,আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংখ্যানুপাতিক প্রতিনিধিত্ব (পিআর) পদ্ধতি নিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল হুমকি দিচ্ছে। অত্যন্ত জোর করছেন।কোনোদিন রাজনীতিতে হতাশ হইনি। সবসময় সবাইকে সাহস দিয়েছি । ইদানীং মাঝে মাঝে হতাশার ছায়া লক্ষ্য করি। বলবেন কেন? যেদিকে তাকিয়ে দেখি, দেশের বেশিরভাগ মানুষই নষ্ট হয়ে গেছে। দুর্নীতি, দুর্নীতি, দুর্নীতি-কোনো অফিস আদালতে যেতে পারবেন না। আগেই বলেছি, আগে ঘুষ দেয়া লাগতো এক লাখ এখন পাঁচ লাখ দিতে হয়।মির্জা ফখরুল বলেন, অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিবাদ থেকে মুক্ত হয়ে গণতন্ত্রে যেতে সংস্কারের মধ্যে নির্বাচনের একটা তারিখও ঘোষণা হয়েছে। আমরা একসাথে যারা আন্দোলন করেছি, সবাই মিলে সংস্কারের ৩১ দফা দিয়েছি। সংস্কারের সবগুলোই ওখানে আছে। সুতরাং সংস্কারের পক্ষে আমরা প্রথম থেকে। কারণ আমরা উপলব্ধি করেছিলাম, বিদ্যমান রাষ্ট্র কাঠামোতে গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। সংস্কার করার জন্যে সব রকম সহযোগিতা সংস্কার কমিশন এবং অন্তর্বর্তী সরকারকে করছি। কোথাও বাধা সৃষ্টি করিনি। কখনো কোনো বড় রকমের দাবি তুলে রাজপথে নেমে সরকারকে বিব্রত করিনি।বিএনপি মহাসচিব বলেন, দুর্ভাগ্যজনকভাবে, আজ কিছু রাজনৈতিক দল বা মহল অত্যন্ত পরিকল্পিতভাবে নির্বাচনকে বানচাল বা ব্যাহত করার জন্য নিত্যনতুন দাবি তুলছে। এমন দাবি তুলছে, যার সঙ্গে মানুষ পরিচিত নয়, সংস্কার শব্দটার সঙ্গেই তো আমাদের সাধারণ মানুষ পরিচিত না। সংখানুপতিক বা পিআর পদ্ধতি বুঝবে না। এটা বুঝতে সময় লাগবে কিন্তু তবে এটা খুবই কঠিন।
দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ফখরুল বলেন, যেদিকে তাকাই দুর্নীতি ছাড়া কিছু দেখি না। অফিস-আদালতে যাওয়া যায় না, ব্যাংকে গিয়ে নিজের টাকাও তোলা যায় না। আজ সকালে আমার স্ত্রী ব্যাংকে ফোন করেছিলেন কিছু টাকা তোলার জন্য, বলা হয়েছে ৫ হাজার টাকার বেশি দেওয়া যাবে না।তিনি অভিযোগ করেন, দেশের অর্থনীতি লুটপাটকারীদের হাতে জিম্মি। এমনকি দিল্লিতে গিয়ে হাজার কোটি টাকার পরিকল্পনা হয়েছে কীভাবে বাংলাদেশে নির্বাচন বন্ধ করা যায়। বিখ্যাত ব্যাংক লুটেরা এস আলম শেখ হাসিনাকে আড়াই হাজার কোটি টাকা দিয়েছে। দিল্লিতে গিয়ে এ টাকা দিয়ে এসেছে, নির্বাচন বানচাল করা, বন্ধ করার জন্য এ টাকা ব্যয় করবে তারা। আলোচনা সভায় ফখরুল আবারও সতর্ক করেন, যদি আমরা মনে করি জিতে গেছি, তবে বিরাট ভুল হবে। যারা ফায়দা নিতে চায়, তারা বিভিন্নভাবে কাজ করছে। তাই আরও বেশি সজাগ থাকতে হবে।



