সিলেটে ত্রিপল হত্যাকাণ্ডে গৃহপরিচিকার প্রেমিকসহ গ্রেপ্তার ১

সিলেট মহানগরীর মিতালী ১১১ নম্বর বাসায় বৃদ্ধ দম্পতি ও এক গৃহপরিচারিকাকে হত্যার ঘটনায় গৃহপরিচারিকার প্রেমিক বাবুল মিয়াকে (৪০) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বুধবার (১২ আগস্ট) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে রায়নগর এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।

গ্রেপ্তার বাবুল মিয়া রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার বাসিন্দা। তার বাবার নাম মৃত নূর মিয়া (কবিরাজ)। পেশায় তিনি রাজমিস্ত্রি। মাঝে মধ্যে মেকানিকের কাজও করতেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।

বুধবার রাত আনুমানিক সাড়ে ৭টার দিকে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের কমিশনার সারোয়ার মুশের্দ শামীম এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

পুলিশ কমিশনার জানান, বুধবার সকাল ৯টা ২৫ থেকে ৯টা ৩৫ মিনিটের মধ্যে ভয়াবহ ত্রিপল হত্যাকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি, প্রযুক্তিগত সহায়তা ও অন্যান্য তথ্য বিশ্লেষণের মাধ্যমে হত্যাকাণ্ডে জড়িত সন্দেহে বাবুল মিয়াকে শনাক্ত করা হয়। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে বাবুল মিয়া হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলেও জানান তিনি।

যেভাবে হত্যাকাণ্ড

পুলিশ কমিশনার জানান, নিহত আবদুস সাত্তার ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম এবং তাদের গৃহকর্মী তাহমিনা—এই তিনজনের সঙ্গে বাবুল মিয়ার পূর্বপরিচয় ছিল। প্রায় ১৫ থেকে ২০ দিন আগে তাহমিনার সঙ্গে বাবুল মিয়ার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে।

বাবুল মিয়া বিভিন্ন সময় রাজমিস্ত্রি ও রংমিস্ত্রির কাজ করতেন। ওই বাড়িতেও আগে কাজ করেছিলেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন তিনি।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, বুধবার সকালে বাবুল মিয়া একটি ছুরি নিয়ে ওই বাড়িতে যান। দরজা খুলে গৃহকর্মী তাহমিনা তাকে ভেতরে প্রবেশ করতে দেন। পরে একটি কক্ষে গিয়ে তাহমিনার সঙ্গে তার কথাকাটাকাটি হয়।

একপর্যায়ে বাবুল মিয়া ছুরি দিয়ে তাহমিনাকে আঘাত করেন। এ সময় সুরাইয়া বেগম এগিয়ে এলে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করা হয়। পরে আবদুস সাত্তার এগিয়ে এলে তার সঙ্গে বাবুল মিয়ার ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে তাকেও ছুরি দিয়ে আঘাত করে হত্যা করা হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনাস্থলে তিনজনকে হত্যার পর বাবুল মিয়া ভারান্দা দিয়ে পালিয়ে যান। পরে তিনি রায়নগর এলাকায় নিজের বাড়িতে ফিরে যান। পুলিশ প্রযুক্তিগত তথ্য ও অন্যান্য সূত্রের ভিত্তিতে তাকে শনাক্ত করে অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার করে।

জঙ্গল থেকে উদ্ধার ছুরি

পুলিশ কমিশনার জানান, হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি বাবুল মিয়ার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে একটি জঙ্গল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর তিনি কোথায় গিয়েছিলেন এবং কীভাবে পালিয়ে ছিলেন, সে বিষয়ে আরও তথ্য জানতে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

পুলিশের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করলেও হত্যার প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে অন্য কোনো বিষয় ছিল কি না, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে।

এদিকে, ঘটনার পর এখন পর্যন্ত কোনো মামলা দায়ের হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করতে পারেননি সংশ্লিষ্টরা। কোতোয়ালি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খান মোহাম্মদ মাইনুল জাকির জানান, ঘটনার বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

নিহতরা হলেন—গৃহপরিচারিকা তাহমিনা, গৃহকর্তা মো. আবদুস সাত্তার ও তার স্ত্রী সুরাইয়া বেগম।

একই ঘটনায় গৃহপরিচারিকার প্রেমিক বাবুল মিয়াকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যের কারণ এবং এতে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখতে তদন্ত চলছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments