রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সাঁওতাল শিশুদের মাতৃভাষায় শিক্ষা কার্যক্রম ও নিজস্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য দেখে মুগ্ধ হয়েছেন নরওয়ের একটি প্রতিনিধিদলের সদস্যরা। বুধবার (২৮ অক্টোবর) উপজেলার শিমলা দীঘিপাড়া বহুভাষিক বিদ্যালয় পরিদর্শন করে শিশুদের মাতৃভাষায় পাঠদান পর্যবেক্ষণ করেন তাঁরা। এ সময় প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের নিজস্ব ভাষায় শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করার উদ্যোগের প্রশংসা করেন প্রতিনিধিদলের সদস্যরা।
নরওয়ের ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড মিউনিসিপ্যালিটির ডেপুটি মেয়র সেলথ বেকবানের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের প্রতিনিধিদলটি রাজশাহী সফর করছে। স্ট্রোমি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ এবং রাজশাহী-ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড ফ্রেন্ডশিপ কমিটির যৌথ পরিকল্পনায় এ সফরের আয়োজন করা হয়। সফরকালে প্রতিনিধিদলটি পরিবেশ ও সমাজ উন্নয়ন সংস্থা ন্যাশনাল এজেন্সি ফর গ্রিন রেভল্যুশনের (এনএজিআর) কার্যক্রমও পরিদর্শন করছে।
বিদ্যালয়ে পৌঁছালে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর সদস্য ও শিক্ষার্থীরা ঐতিহ্যবাহী নাচ-গানের মাধ্যমে প্রতিনিধিদলকে স্বাগত জানান। সাঁওতাল রীতি অনুসারে অতিথিদের পা ধুইয়ে বরণ করা হয়। এ সময় বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে এক আবেগঘন পরিবেশের সৃষ্টি হয়।
পরে প্রতিনিধিদলের সদস্যরা শ্রেণিকক্ষে শিশুদের মাতৃভাষায় পাঠদান পর্যবেক্ষণ করেন এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজখবর নেন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ দেখে তারা সন্তোষ প্রকাশ করেন। পরিদর্শন শেষে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের সঙ্গে দলীয় ছবিতেও অংশ নেন তাঁরা।
প্রতিনিধিদলের সদস্যরা বলেন, একটি জাতির ভাষা তার বড় পরিচয় ও সম্পদ। মাতৃভাষা হারিয়ে গেলে একসময় সেই জাতির অস্তিত্ব ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংকটে পড়তে পারে। সাঁওতাল শিশুদের মাতৃভাষায় প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের সুযোগ তাদের নিজস্ব ভাষা ও সংস্কৃতি সংরক্ষণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এনএজিআরের নির্বাহী পরিচালক স্টেফান সরেন বলেন, মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ পেয়ে সাঁওতাল জনগোষ্ঠীর মানুষ আনন্দিত ও কৃতজ্ঞ। মেনোনাইট সেন্ট্রাল কমিটির অর্থায়নে ১৫টি এবং স্ট্রোমি ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ ও ক্রিস্টিয়ানস্যান্ড-রাজশাহী ফ্রেন্ডশিপ কমিটির উদ্যোগে আরও পাঁচটি বহুভাষিক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, এ ধরনের বিদ্যালয়ের সংখ্যা বাড়লে আরও বেশি আদিবাসী শিশু মাতৃভাষায় শিক্ষার সুযোগ পাবে। পাশাপাশি তারা মূলধারার শিক্ষায় এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ পাবে। এ কার্যক্রমের পরিধি বাড়াতে নরওয়ের প্রতিনিধিদল ও দাতা সংস্থাগুলোর অব্যাহত সহযোগিতা কামনা করেন তিনি।



