পুলিশ সদর দফতর অভিমুখে প্রকৌশলশিক্ষার্থীরা, মৎস্য ভবন মোড়ে আটকে গেলেন

তিন দফা দাবি আদায় এবং পুলিশের হামলার প্রতিবাদে পুলিশ সদর দফতরের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করলে রাজধানীর মৎস্য ভবন মোড়ে প্রকৌশল শিক্ষার্থীদের আটকে দেওয়া হয়েছে। পরে তারা সেখানে অবস্থান নিয়ে স্লোগান দিতে থাকেন ও সড়ক অবরোধ করেন। গতকাল বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে শিক্ষার্থীরা শোভাযাত্রা শুরু করেন। সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে মৎস্য ভবনে পৌঁছালে পুলিশি বাধার মুখে পড়েন শিক্ষার্থীরা। বাধা পেয়ে তারা গোলচত্বরে অবস্থান নেন এবং বিক্ষোভ শুরু করেন। এতে ওই এলাকার যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র রিফাত হোসেন বলেন, আমরা শান্তিপূর্ণভাবে পুলিশ সদর দফতরের দিকে যাচ্ছিলাম। কিন্তু আমাদের পথরোধ করা হলো। আমাদের সহপাঠীদের ওপর যে হামলা হয়েছে, তার ন্যায়বিচার না পাওয়া পর্যন্ত আমরা আন্দোলন চালিয়ে যাবো।
আরেক শিক্ষার্থী শারমিন আক্তার বলেন, আমরা কোনও বিশৃঙ্খলা চাই না। আমরা কেবল নিরাপদ ক্যাম্পাস, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার এবং পুলিশের হামলার বিচার চাই। অথচ আমাদের পথ আটকে দিয়ে আরও বঞ্চিত করা হচ্ছে।
বিক্ষোভ চলাকালে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীরা ঢাকা মহানগর পুলিশের ডিসি মাসুদ আলমের কুশপুত্তলিকা পোড়ান। বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা ৫৫ মিনিটে মৎস্য ভবন গোলচত্বরে এ ঘটনা ঘটে।
এর আগে, শিক্ষার্থীরা বিকালে বুয়েট ক্যাম্পাস থেকে মিছিল নিয়ে শহীদ মিনার, টিএসসি, দোয়েল চত্বর, শিক্ষা ভবন, প্রেসক্লাব ও হাইকোর্ট অতিক্রম করে মৎস্য ভবনে এসে অবরোধে বসেন।
এর আগে মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) শিক্ষার্থীরা পাঁচ ঘণ্টা শাহবাগ অবরোধ করেন। পরদিন বুধবার (২৭ আগস্ট) ‘লংমার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির অংশ হিসেবে শাহবাগে অবস্থান নেন। পরে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনায় যাওয়ার চেষ্টা করলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষ বাধে। ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া, লাঠিচার্জ, কাঁদানে গ্যাস ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের ঘটনায় শিক্ষার্থীসহ কয়েক জন পুলিশ কর্মকর্তা আহত হন।
তদন্তে ডিএমপির ৩ সদস্যের কমিটি : রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের বলপ্রয়োগের ঘটনা তদন্তে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে ডিএমপি কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলীর সই করা এক অফিস আদেশে এ তথ্য জানানো হয়।
কমিটির সভাপতি হিসেবে দায়িত্বে রয়েছেন অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার (লজিস্টিকস, ফিন্যান্স অ্যান্ড প্রকিউরমেন্ট) হাসান মো. শওকত আলী। সদস্য হিসেবে আছেন যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ট্রাফিক-উত্তর) সুফিয়ান আহমেদ এবং সদস্য সচিব হিসেবে উপপুলিশ কমিশনার (অর্থ) সাদেক আহমেদ।
অফিস আদেশে বলা হয়েছে, বুধবার (২৭ আগস্ট) বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) ও অন্যান্য প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শাহবাগে জড়ো হয়ে দাবি আদায়ের কর্মসূচি শুরু করেন। একপর্যায়ে তারা প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন ‘যমুনা’র দিকে যাত্রা করলে ইন্টারকন্টিনেন্টালের সামনে পুলিশের সঙ্গে তাদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। শিক্ষার্থীরা পুলিশের ব্যারিকেড অতিক্রমের চেষ্টা করলে পুলিশ বলপ্রয়োগ করে মিছিল ছত্রভঙ্গ করে।
ডিএমপির আদেশে আরও বলা হয়, ঘটনার সিসিটিভি ফুটেজ, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও পারিপার্শ্বিক পরিস্থিতি বিশ্লেষণ করে পুলিশের বলপ্রয়োগের কার্যকারণ ও মাত্রার যথার্থতা নিরূপণে এই কমিটি গঠন করা হয়েছে। তিন কার্যদিবসের মধ্যে মতামতসহ প্রতিবেদন জমা দিতে কমিটিকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments