লতিফ সিদ্দিকী, শিক্ষক হাফিজুরসহ ১৬ জন কারাগারে

আওয়ামী লীগ থেকে বহিষ্কৃত সদস্য ও সাবেক মন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন), সাংবাদিক মঞ্জুরুল আলমসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত। তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার সকালে তাদের সিএমএম আদালতে আনা হয়। ম্যাজিস্ট্রেট সারাহ ফারজানা হক এ আদেশ দেন।
আটকের ১২ ঘণ্টারও বেশি সময় পর গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত পৌনে একটার দিকে এই ১৬ জনের বিরুদ্ধে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা করা হয়েছে। রাজধানীর শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আমিরুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা করেন। গ্রেপ্তার অন্য ব্যক্তিরা হলেন আব্দুল্লাহ আল আমিন (৭৩), কাজী এটিএম আনিসুর রহমান (৭২), গোলাম মোস্তফা (৮১), মহিউল ইসলাম (৬৪), জাকির হোসেন (৭৪), তৌছিফুল বারী খান (৭২), আমির হোসেন সুমন (৩৭), আল আমিন (৪০), নাজমুল আহিসান (৩৫), সৈয়দ শাহেদ হাসান (৩৬), শফিকুল ইসলাম (৬৪), দেওয়ান মোহাম্মদ আলী (৫০) এবং আব্দুল্লাহীল কাইয়ুম (৬১)। আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আদালতের কাছে দাবি করেছেন, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের মধ্যে দুজন পথচারী।
এ ব্যাপারে শাহবাগ থানার ওসি খালিদ মনসুর বলেন, পুলিশ বাদী হয়ে সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা মামলায় লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তাদেরকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
মামলায় যেসব অভিযোগ করা হয়েছে ঃ
মামলার বিবরণীতে বলা হয়েছে, ‘বেশকিছু লোকজন রিপোর্টার্স ইউনিটির অডিটরিয়ামে কিছু লোককে ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দিচ্ছে এবং একজন ব্যক্তি দাড়িয়ে বক্তব্য দিচ্ছে। আমি বক্তব্যরত ব্যক্তিকে হেফাজতে নেই এবং উনাকে চিনতে পারি উনি সাবেক মন্ত্রী, উনার নাম আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী (৭৫)। উনাকে জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস মুছে ফেলার গভীর ষড়যন্ত্র ও মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস বিকৃতি বদের লক্ষ্যে গত ৫ আগস্ট “মঞ্চ ৭১” নামে একটি সংগঠনের আত্মপ্রকাশ ঘটে। উক্ত সংগঠনের উদ্দেশ্য জাতির অর্জনকে মুছে ফেলার সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করতে বাংলাদেশের জনগনকে সঙ্গে নিয়ে আত্মত্যাগের প্রস্তুতি নেয়া। প্রস্তুতির অংশ হিসেবে ২৮ আগষ্ট সকাল ১০ টায় ডিআরইউতে একটি গোল টেবিল বৈঠকের আয়োজন করা হয়েছে। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে টিমকে নিয়ে হাজির হয়ে উপস্থিত লোকজনদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী (৭৫) “মঞ্চ ৭১” এর ব্যানারকে পুজি করে প্রকৃতপক্ষে দেশকে সশস্ত্র সংগ্রামের মাধ্যমে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও উপস্থিত অন্যদের প্ররোচিত করে বক্তব্য প্রদান করছিল। তার এই ষড়যন্ত্রমূলক বক্তব্যের জন্য উপস্থিত লোকজন তাদেরকে ঘেরাও করে আওয়ামী ফ্যাসিস্ট বলে স্লোগান দিচ্ছিল। তারাসহ ৭০/৮০ জন পরস্পর সহায়তাকারী হিসেবে দেশকে অস্থিতিশীল করে বর্তমান অন্তবর্তীকালীন সরকারকে উৎখাত করার ষড়যন্ত্র ও প্ররোচনার অপরাধ করেছে যা, সন্ত্রাস বিরোধী আইন ২০০৯ এর ৬(২)/এর (ঈ)/১২ ধারার অপরাধ।’
জামিন চাননি লতিফ সিদ্দিকী ঃ
সাবেক বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী আদালতের কাছে তার জামিনের জন্য আবেদন করেননি। শুক্রবার সকালে ঢাকার মহানগর হাকিম সারাহ্ ফারজানা হকের আদালতে, এই মামলায় লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার এসআই তৌফিক হাসান। মামলার শুনানিতে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকী তার জামিনের প্রার্থনার জন্য ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেননি বলে আইনজীবী সাইফুল ইসলাম সাইফ জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, লতিফ সিদ্দিকীর জামিন প্রার্থনা জন্য তার কাছে ওকালতনামায় স্বাক্ষর করতে যাই আদালতের অনুমতি সাপেক্ষে। তখন তিনি বলেন, যে আদালতের জামিন দেওয়ার ক্ষমতা নেই, তার কাছে কেন জামিন চাইব? আমি ওকালতনামায় স্বাক্ষর করব না, জামিন চাইব না। আমি যতবার স্বাক্ষর নিতে যাই, ততবারই তিনি এ কথা বলেন, তিনি জামিনের প্রার্থনা করেননি।”
আসামি পক্ষের আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখীসহ অন্যরা জামিন চেয়ে শুনানি করেন। রাষ্ট্রপক্ষে মুহাম্মদ শামছুদ্দোহা সুমন জামিনের বিরোধিতা করেন।
উভয় পক্ষের শুনানি শেষে ঢাকার মহানগর হাকিম সারাহ্ ফারজানা হক লতিফ সিদ্দিকীসহ ১৬ জনকে কারাগারে পাঠানোর এ আদেশ দেন।
এদিন সকালে আসামিদের সিএমএম আদালতে আনার পর হাজতখানায় রাখা হয়। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে তাদের এজলাসে তোলা হয়। এসময় তাদের হাতে হাতকড়া, মাথায় হেলমেট, বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট ছিল। কাঠগড়ায় তোলার পরও আসামিদের পরনে বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট দেখা গেছে।
শেখ হাফিজুর রহমান (কার্জন) পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘ভয়াবহ অবস্থা। বুলেটপ্রুফ জ্যাকেট খুলি।’ তখন পুলিশ সদস্যরা তাদের জ্যাকেট খুলে দেন।
কাঠগড়ায় সবার সামনে দাঁড়িয়ে থাকেন লতিফ সিদ্দিকী। এসময় তাকে হাস্যজ্জ্বোল দেখা যায়। পানি পান করেন। মাঝে মধ্যে মুখে হাত দিয়ে দাঁড়িয়ে থাকেন। ১০টা ৫৫ মিনিটের দিকে ঢাকার মহানগর হাকিম সারাহ ফারজানা হক এজলাসে ওঠেন। এ সময় আদালতের অনুমতি নিয়ে আইনজীবীরা আসামিদের স্বাক্ষর নিতে চান। লতিফ সিদ্দিকী বাদে অপর অধিকাংশ আসামিই ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেন। লতিফ সিদ্দিকীর কাছে সাইফুল ইসলাম সাইফ স্বাক্ষর নিতে যাওয়ার পর তিনি ওকালতনামায় স্বাক্ষর করেননি। কারাগারে নেওয়ার পথে সাংবাদিকরা লতিফ সিদ্দিকীর কাছে তার কিছু বলার আছে কী না জানতে চাইলে তিনি মাথা নাড়িয়ে ‘না’ করে দেন। পরে তাকেসহ অন্যদের কারাগারে নিয়ে যাওয়া হয়।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments