মালয়েশিয়ার রয়্যাল পুলিশ সদর দপ্তর বাংলাদেশের অনুরোধে মানব পাচার ও অর্থপাচারের অভিযোগে অভিযুক্ত বেস্টিনেট কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা আমিনুল ইসলাম আব্দুল নূর ও তার সহযোগী রুহুল আমিনকে দেশে প্রত্যর্পণের বিষয়টি বিবেচনা করছে।
মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল শুক্রবার স্থানীয় গণমাধ্যম মালয় মেইল-কে জানান, বিষয়টি সরকার-টু-সরকার এবং পুলিশ-টু-পুলিশ উভয় স্তরে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার ভিত্তিতে পরিচালিত হচ্ছে।
তিনি বলেন, স¤প্রতি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর ড. মুহাম্মদ ইউনূসের সঙ্গে সাক্ষাতকালে বিষয়টি নিয়ে তার সঙ্গে আলোচনা হয়। উভয় পক্ষ একমত হয়েছে যে বিষয়টি পুলিশ-টু-পুলিশ পর্যায়ে পরিচালিত হবে। আপাতত এখানেই সীমাবদ্ধ থাকছি, এর বেশি কিছু বলতে চাই না, সাইফুদ্দিন।
তবে মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দাতুক সেরি সাইফুদ্দিন নাসুতিওন ইসমাইল বাংলাদেশ প্রত্যর্পণের উদ্দেশ্য বিস্তারিতভাবে ব্যাখ্যা করেননি।
মালয়েশিয়ার মালয় মেইল আরো জানায়, বেস্টিনেট একটি তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান, যা মালয়েশিয়া সরকার কর্তৃক বিদেশি কর্মীদের প্রবেশ প্রক্রিয়া পরিচালনার জন্য ব্যবহৃত কেন্দ্রীয় ব্যবস্থাপনা সিস্টেম পরিচালনা করে। আমিনুল বাংলাদেশে জন্মগ্রহণকারী মালয়েশিয়ান নাগরিক এবং রুহুল আমিন ঢাকা ভিত্তিক নিয়োগ প্রতিষ্ঠান ক্যাথার্সিস ইন্টারন্যাশনালের মালিক।
গত বছরের নভেম্বরে সাইফুদ্দিন জানান, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে আমিনুল ও রুহুলকে গ্রেপ্তারের অনুরোধ মালয়েশিয়ার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পৌঁছেছে। অভিযোগে বলা হয়েছিল, তারা অর্থপাচার, চাঁদাবাজি এবং বিদেশি কর্মী পাচারের সঙ্গে জড়িত।
এর আগে গত বছরের মে মাসে মালয়েশিয়া বাংলাদেশসহ কয়েকটি দেশ থেকে নতুন কর্মী নিয়োগ স্থগিত করে। ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আমিনুল ও রুহুলের নেতৃত্বাধীন ১০১টি নিয়োগ এজেন্সির সিন্ডিকেটের মাধ্যমে মালয়েশিয়ায় প্রায় ৪ লাখ ৫০ হাজার বাংলাদেশি শ্রমিক পাঠানো হয়। তাদের প্রত্যেকের কাছ থেকে সাড়ে ৪ হাজার থেকে ৬ হাজার মার্কিন ডলার নেওয়া হয়েছিল।
গত বছরের ২৪ অক্টোবর বাংলাদেশ পুলিশ পুত্রজায়ায় একটি চিঠি পাঠিয়ে দুজনের গ্রেপ্তার ও প্রত্যর্পণ চায়। তাদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার, চাঁদাবাজি ও মানবপাচার সংক্রান্ত মামলার তদন্তে সহায়তা চাওয়া হয়।



