ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদির উপর হামলার এক সপ্তাহ না গড়াতেই এবার জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) একজন নেত্রীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। জান্নাত আরা রুমি (৩০) নামে ওই নেত্রীর মরদেহ রাজধানীর ঝিগাতলার একটি ছাত্রী হোস্টেল থেকে গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে উদ্ধার করা হয়।
পারিবারিক কলহে হতাশা থেকে তিনি আত্মহত্যা করতে পারেন বলে ধারণা করছে পুলিশ। তবে রুমীর মৃত্যু হত্যা না আত্মহত্যা তা গভীরভাবে পুলিশকে তদন্ত করতে অনুরোধ জানিয়েছেন তার রাজনৈতিক সহকর্মীরা। রুমির ঘরে ডিপ্রেশনের ওষুধ পাওয়ার কথা জানিয়েছে হাজারীবাগ থানা পুলিশ।
রুমীর চাচাতো ভাই মেহেদী হাসান জানান, জিগাতলার একটি ছাত্রী হোস্টেলে থাকতেন রুমী। শুনেছি রুমীর রুমমেট বাড়িতে গেছেন। বুধবার রাতে একাই ছিলেন রুমী। তবে একই ফ্ল্যাটে পাশের রুমে অন্য রুমমেটরা ছিলেন। রাতে গৃহকর্মী পঞ্চম তলায় তাদের ফ্ল্যাটের সামনে গেলে দরজা খোলা দেখতে পান এবং ভেতরে আলো জ্বলতে দেখেন। এরপর উঁকি দিলে রুমীকে ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখতে পান। পরে তিনিই সবাইকে ডেকে তোলেন।
মেহেদী হাসান বলেন, রুমীর দু’বার বিয়ে হয়েছিল। দুই সংসারই ভেঙে গেছে। দুই সংসারে দুটি সন্তানও রয়েছে রুমীর। দুই সন্তান বাবার কাছে থাকে। রুমীর মৃত্যু কারণ সম্পর্কে তার স্বজনেরা বলেন, সাংসারিক বা পারিবারিক বিষয়ে হতাশা থেকে এমন ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন রুমী। তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বিস্তারিত তদন্ত করে দেখার আহŸান জানান তারা।
রুমীর বাড়ি নওগাঁর পতœীতলা উপজেলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ডের পাশে। বাবার জাকির হোসেন। রুমী ধানমন্ডি গণস্বাস্থ্য নগর হাসপাতাল থেকে নার্সিংয়ে পড়ালেখা শেষ করেছেন। এরপর বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে চাকরি করছিলেন। তবে সর্বশেষ কোথাও ছিলেন না।
রুমী জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ধানমন্ডি শাখার যুগ্ম সমন্বয়কারী ছিলেন বলে জানিয়েছেন দলটির যুগ্ম সদস্য সচিব তারেক রেজা।
ফেসবুক পোস্টে তারেক রেজা লিখেছেন, ‘আপনাদের মনে থাকার কথা, গত মাসে শেখ হাসিনার ফাঁসির রায়ের দিন ধানমন্ডি ৩২ এ ফ্যাসিস্ট ও খুনি আওয়ামীলীগাররা কী সিন ক্রিয়েট করেছিল। সেখানে একজন জেন-জি নারীকে আপনারা দেখেছিলেন এক আওয়ামী লীগারকে (যে জিয়ার কবর খুঁড়তে চাইছিল) পিটায়ে পুলিশের কাছে ধরায়ে দিতে। সেই জেন-জি নারী গত এক মাস ধরে আওয়ামী লীগের ক্রমাগত সাইবার বুলিং, হত্যা ও রেপ থ্রেটে অতিষ্ঠ হয়ে রাতে আত্মহত্যা করেছে।’
এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক খান মুহাম্মদ মুরসালীন বলেন, ‘জান্নাত আরা রুমী বেশ কিছুদিন ধরে নানাভাবে হুমকি পাচ্ছিলেন। এটা আত্মহত্যা নাকি হত্যা, সে বিষয়ে আমরা এখনো নিশ্চিত নই। তিনি সাইবার বুলিংয়েরও শিকার হচ্ছিলেন।’
হাজারীবাগ থানাপুলিশ জানিয়েছে, মরদেহের সুরতহাল প্রস্তুত করার পর ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। সেখান থেকে লাশ তার গ্রামের বাড়ি নিয়ে যাওয়া হয়েছে। সেখানে তার দাফন হবে।
জান্নাত আরা রুমি পারিবারিক বিষয়ে হতাশাগ্রস্ত থাকার কারণে আত্মহত্যা করতে পারেন বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করছে পুলিশ। গতকাল ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) ধানমন্ডি জোনের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জিসানুল হক এ তথ্য জানান।তিনি বলেন, জান্নাত আরা রুমি পারিবারিক কলহ কিংবা পারিবারিক কিছু বিষয় নিয়ে কিছুদিন ধরে হতাশাগ্রস্ত ছিলেন। হতাশা থেকে আত্মহত্যার মতো ঘটনা ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি।
হাজারীবাগ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শাহাদাত হোসেন জানান, ৯৯৯ নম্বরে ফোনকল পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে জান্নাত আরা রুমিকে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া যায়। হোস্টেলের ঘরগুলো হার্ডবোর্ড দিয়ে পার্টিশন করা, ফলে পাশের রুম থেকে কিছুটা দেখা যায়।রুমির ঘরে ডিপ্রেশনের ওষুধ পাওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, পারিবারিক কারণে তিনি মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলেন বলে আশপাশের লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে।



