এলপিজি সংকটের কারণে দেশে প্রায় বিদ্যুৎ চাহিদা বেড়েছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছর প্রায় এক হাজার মেগাওয়াট বাড়তি বিদ্যুৎ ব্যবহার করছেন গ্রাহকরা।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি) এবং বিদ্যুৎ বিতরণ কোম্পানিগুলোর সংশ্লিষ্টরা এ তথ্য জানিয়ে বলছেন, দেশে পাইপলাইনের গ্যাস এবং তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) সরবরাহে ঘাটতি থাকায় বৈদ্যুতিক চুলার ব্যবহার বেড়েছে। গত বুধবার রাজধানীর বিদ্যুৎ ভবনে অনুষ্ঠিত এক আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় পিডিবির চেয়ারম্যান প্রকৌশলী রেজাউল করিমও এ তথ্য জানান।
সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় দৈনিক বিদ্যুৎ চাহিদা কেন অতিরিক্ত এক হাজার থেকে ১২শ’ মেগাওয়াট বেড়েছে তা পিডিবি বিশ্লেষণ করেছে বলে জানান রেজাউল করিম। তাতে স্পষ্টভাবে উঠে এসেছে, এলপিজি সংকটের কারণে ঘরোয়া ও বাণিজ্যিক পর্যায়ে মানুষ ইন্ডাকশন চুলা, রাইস কুকারসহ বিভিন্ন বৈদ্যুতিক যন্ত্রের ব্যবহার বাড়িয়েছে।
এটি সরাসরি বিদ্যুৎ ব্যবহারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ কমে গেলে পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। এ কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে অন্তত গত বছরের সমপরিমাণ গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করার তাগিদ দেন তিনি।
পিডিবির এই মূল্যায়নের সঙ্গে একমত পোষণ করেন বিদ্যুৎ সচিব ফারজানা মমতাজ। তিনি বলেন, আসন্ন গ্রীষ্মকাল, রমজান এবং নির্বাচনকালীন সময়ে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ নিশ্চিত করতে বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর জন্য গ্যাস বরাদ্দ বাড়ানো জরুরি। অন্যথায় পিডিবির পক্ষে বিদ্যুৎ সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। এ বিষয়ে তিনি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগকে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ জানান।
সরকার ইতোমধ্যে জানিয়েছে, গত বছরের তুলনায় তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে চলতি বছরে লোডশেডিংয়ের আশঙ্কা রয়েছে। সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান বলেন, রমজান মাসে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সরবরাহ নির্বিঘ্ন রাখতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি বিভাগকে সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নিতে হবে। তিনি আরও বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর আমি দায়িত্বে না থাকলেও গত বছরের মতো পারফরম্যান্স ধরে রাখতে আপনাদের সবাইকে সমন্বিত ও নিবেদিতভাবে কাজ চালিয়ে যেতে হবে।



