প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক মহাপরিচালক লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) শেখ মামুন খালেদ বর্তমানে পুলিশের রিমান্ডে রয়েছে। জুলাই গণ-অভ্যুত্থানকালে রাজধানীর মিরপুরে দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় তাকে রিমান্ডে নেওয়া হলেও মূলত তাকে বিএনপির তৎকালীন সাংগঠনিক সম্পাদক ইলিয়াস আলী গুমের বিষয়ে তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।
২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ইলিয়াস আলী গুম হওয়ার সময় ডিজিএফআইয়ের মহাপরিচালক ছিলেন মামুন খালেদ। কাদের মাধ্যমে ইলিয়াস আলীকে গুম করা হয়েছে সে ব্যাপারে জানতে চাওয়া হয়েছে তার কাছ থেকে। এ ব্যাপারে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে তদন্তকারীরা জানিয়েছে।
এছাড়া ২০১০ সালের ২৫ জুন বিএনপির তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর ও ঢাকা মহানগর বিএনপির যুগ্ম সম্পাদক চৌধুরী আলমগুমের বিষয়েও জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। তখনও তিনি ডিজিএফআইতে কর্মরত ছিলেন। ফলে এই বিষয়গুলো তার জ্ঞাতসারেই হয়েছে।
এদিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ -এ মামুন খালেদকে গুমের মামলায় গ্রেপ্তারের আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। ৭ এপ্রিল তাকে ট্রাইব্যুনালে হাজির করার কথা।
মামুন খালেদ ২০০৭ সালে প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) ফোর্সেস সিগন্যাল ইন্টেলিজেন্স ব্যুরোতে যোগদান করেন। ২০১১ সালের ২৩ জুন থেকে ২০১৩ সালের ৭ মার্চ পর্যন্ত ডিজিএফআই’র মহাপরিচালক ছিলেন তিনি। এই সময় গুম হন ইলিয়াস আলী। ফলে এই গুমের বিষয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য জানেন বলে জিজ্ঞাসাবাদকারী সূত্র জানিয়েছে।
এমনকি চৌধুরী আলমসহ ২০১৩ সালের ৪ ডিসেম্বর মায়ের ডাকের আহবায়ক সানজিদা ইসলাম তুলির ভাই সাজেদুল ইসলাম সুমন, জাহেদুল করিম তানভীর, কাওসার আহমেদ, আব্দুল কাদের ভূঁইয়া মাসুম, মাজহারুল ইসলাম রাসেল, আসাদুজ্জামান, আলামিন ও এ এম আদনান চৌধুরী এক রাতে গুম হন। এ ব্যাপারেও তার কাছে জানতে চেয়েছেন তদন্তকারীরা।
গত বৃহস্পতিবার রাজধানীর মিরপুর মডেল থানার দেলোয়ার হোসেন হত্যা মামলায় পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়ে এ ব্যাপারে মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। গতকাল রবিবার ছিল রিমান্ডের চতুর্থ দিন।
একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে ১৬৪ ধারায় র্যাব সদস্য সার্জেন্ট তাহেরুল ইসলাম ইলিয়াস আলীকে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে জবানবন্দি দেন। সেখানে উঠে আসে এই গুম ও হত্যাকাণ্ডের নির্দেশদাতা কারা ছিলেন।
গুম কমিশন থেকে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে জানায় তারা এ ব্যাপারে অধিকতর তদন্তকালে ইলিয়াস আলী গুমের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উদঘাটন করেছে। বেশ কয়েকজনকে শনাক্তও করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। এসব ব্যাপারে মামুন খালেদকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত বুধবার মধ্যরাতে রাজধানীর মিরপুরের ডিওএইচএসের বাসা থেকে মামুন খালেকদে গ্রেপ্তার করা হয়।
গত বছরের মে মাসে শেখ মামুন খালেদ, তার স্ত্রী নিগার সুলতানা খালেদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা দেন আদালত। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এই আদেশ দেওয়া হয়।
তার বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞার আবেদনে বলা হয়, শেখ মামুন খালেদের বিরুদ্ধে অবৈধভাবে শেয়ার ব্যবসা, ক্ষমতার অপব্যবহার, বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অর্থ আত্মসাৎ এবং জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে অনুসন্ধান চলছে।
অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদ্বয় দেশ ছেড়ে বিদেশে পলায়ন করতে পারেন মর্মে অনুসন্ধানকালে বিশ্বস্ত সূত্রে জানা যায়। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞা প্রদান করা একান্ত প্রয়োজন।



