তিন কারণে শান্তাহার জংশন থেকে নীলফামারি অভিমুখী সংলগ্ন বাগবাড়ি এলাকায় ঢাকা-চিলাহাটি রুটের নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি লাইনচ্যুতির ঘটনা ঘটেছে। ট্রেন লাইনচ্যূতির ঘটনায় পাকশী বিভাগীয় যান্ত্রিক প্রকৌশলী মইনউদ্দিন সরকারকে আহ্বায়ক করে গঠিত পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি তদন্ত শেষে প্রতিবেদনটি রেলওয়ের মহাপরিচালক (ডিজি) বরাবর পাঠিয়েছে।
প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার জন্য রেলওয়ের তিনটি পৃথক বিভাগের কর্মকর্তাদের দায়িত্বে চরম অবহেলা এবং বিধি লঙ্ঘনের প্রমাণ পাওয়া গেছে বলে উল্লেখ করেছে। প্রতিবেদনে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।
এ ব্যাপারে রেলের পশ্চিমাঞ্চল মহাব্যবস্থাপক (জিএম) ফরিদ আহম্মেদ বলেন, প্রতিবেদনে প্রকৌশল বিভাগ, লোকোমাস্টার ও স্টেশন মাস্টারের গাফিলতির বিষয়টি সুস্পষ্টভাবে উঠে এসেছে।
তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, দুর্ঘটনার মূল কারণ ছিল রেলওয়ের প্রতিষ্ঠিত বিধিমালার (এস্টাবলিশড রুল) লঙ্ঘন। রেললাইনে কাজ চলাকালীন স্টেশন মাস্টারের পক্ষ থেকে চালককে প্রয়োজনীয় ‘অর্ডার ওপিটি’ ফর্ম বা সতর্কবার্তা দেওয়া হয়নি। নিয়ম অনুযায়ি, এই ফর্ম ইস্যু করা হলে চালক আগে থেকেই কাজের বিষয়ে অবগত থাকতেন এবং ট্রেনের গতি ১০ থেকে ২০ কিলোমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ রাখতেন।
দ্বিতীয়ত, প্রকৌশল বিভাগের পক্ষ থেকে লাইনে কাজ করার সময় বিধি অনুযায়ি নির্দিষ্ট দূরত্বে লাল পতাকা (ফ্ল্যাগ) প্রদর্শন করা হয়নি। এছাড়া ট্রেনের লোকোমাস্টারের বিরুদ্ধেও অসতর্কতার অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামনে রেলকর্মীরা কাজ করলেও এবং পর্যাপ্ত দূরত্বে পতাকা না থাকলেও চালক দূর থেকে বিষয়টি খেয়াল করে সতর্ক হতে পারতেন।
উল্লেখ্য, গত ১৮ মার্চ দুপুরে নীলসাগর এক্সপ্রেস ট্রেনটি সান্তাহার জংশন অতিক্রম করে বাগবাড়ি এলাকায় পৌঁছালে ৯টি বগি লাইনচ্যুত হয়। এতে ট্রেনের অন্তত ৬৬ জন যাত্রী আহত হন। আহতদের আদমদিঘী ও নওগাঁ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এই দুর্ঘটনার ফলে উত্তরবঙ্গের সঙ্গে ঢাকা ও রাজশাহীর রেল যোগাযোগ দীর্ঘ সময় বিচ্ছিন্ন ছিল, যার ফলে ৬টি ট্রেনের যাত্রা বাতিল এবং ৭টি ট্রেনের শিডিউল বিপর্যয় ঘটে।


