হবিগঞ্জের মাধবপুর উপজেলায় একটি তেলবাহী ট্রেনের পাঁচটি ওয়াগনসহ মোট ছয়টি বগি লাইনচ্যুত হওয়ার ১২ ঘণ্টা পার হলেও এখনো উদ্ধারকাজ শেষ হয়নি। বুধবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে মনতলা রেল স্টেশনের কাছে তেলবাহী ট্যাংকার লাইনচ্যুত হয়। ঘটনার পর থেকেই সিলেটের সঙ্গে ঢাকা ও চট্টগ্রামসহ সারাদেশের রেল যোগাযোগ সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। রেললাইন মেরামত ও ওয়াগন উদ্ধারে বর্তমানে সেনাবাহিনীর পাশাপাশি রেলওয়ের প্রকৌশলীরা কাজ করছেন।

রেলওয়ে সূত্র জানায়, ১৬টি বগি নিয়ে চট্টগ্রাম থেকে ডিজেলবাহী ট্রেনটি সিলেটের দিকে যাচ্ছিল। পথে মনতলা নামক স্থানে পৌঁছালে হঠাৎ বিকট শব্দে ট্রেনের ছয়টি বগি লাইন থেকে ছিটকে পড়ে। এর মধ্যে পাঁচটি ছিল তেলের ওয়াগন। দুর্ঘটনার তীব্রতা এতই বেশি ছিল যে, একটি অয়েল ট্যাংকার রেল সেতু থেকে ছিটকে সরাসরি নিচের খালে পড়ে যায়। এই ঘটনায় রেলওয়ের প্রায় ৫০০ মিটার লাইন দুমড়েমুচড়ে গেছে, যা মেরামত করা বেশ সময়সাপেক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
দুর্ঘটনার খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে আখাউড়া থেকে একটি উদ্ধারকারী রিলিফ ট্রেন ঘটনাস্থলে পৌঁছায় এবং রাত ১টা থেকে উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। তবে লাইনচ্যুত ওয়াগনগুলো উদ্ধার না কওে আপাতত ভেঙ্গে যাওয়া লাইন মেরামত করে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা করা হচ্ছে। সর্বশেষ খবর অনুযায়ি ১৫ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো লাইন স্বাভাবিক করা সম্ভব হয়নি।
এদিকে দুর্ঘটনার পর পর তেলের ট্যাংকারগুলো থেকে প্রচুর পরিমাণে ডিজেল বের হতে শুরু করলে এক অভাবনীয় পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। আশেপাশের গ্রামের কয়েকশ মানুষ হাড়ি, পাতিল, বালতি ও ড্রাম নিয়ে তেল সংগ্রহ করতে দুর্ঘটনাস্থলে হুমড়ি খেয়ে পড়েন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে দ্রুত ঘটনাস্থলে পুলিশ, বিজিবি ও বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর সদস্যরা উপস্থিত হন এবং এলাকাটি ঘিরে ফেলে জনতাকে সরিয়ে দেন। বর্তমানে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারিতে উদ্ধারকাজ চলছে।
রেলওয়ে জানায়, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে রেলওয়ের বিভাগীয় পরিবহন কর্মকর্তা মেহেদী হাসানকে প্রধান করে পাঁচ সদস্যের একটি উচ্চপর্যায়ের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে আগামী তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ট্রেনের গতিসীমা লঙ্ঘন নাকি রেললাইনের কোনো যান্ত্রিক ত্রুটি ছিল, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। তিনি আরও জানান, ক্ষতিগ্রস্ত পাঁচটি ওয়াগনে প্রায় দুই লাখ লিটার ডিজেল ছিল, যার মধ্যে আনুমানিক ২০ থেকে ৩০ শতাংশ জ্বালানি নষ্ট হয়ে গেছে।

রেল যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকায় চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন হাজারো যাত্রী। রেল কর্তৃপক্ষ আজ বৃহস্পতিবারের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ট্রেনের যাত্রা বাতিল করেছে। এর মধ্যে রয়েছে সিলেট থেকে ঢাকাগামী ‘উপবন এক্সপ্রেস’, সিলেট থেকে চট্টগ্রামগামী ‘উদয়ন এক্সপ্রেস’ এবং চট্টগ্রাম থেকে সিলেটগামী আন্তঃনগর ‘পাহাড়িকা এক্সপ্রেস’।
রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আশা করছে, দুপুরের মধ্যে অন্তত একটি লাইন সচল করা সম্ভব হবে, তবে পুরোপুরি স্বাভাবিক হতে আরও সময় লাগতে পারে। যাত্রীদের সাময়িক এই অসুবিধার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেছে রেল বিভাগ।


