মালয়েশিয়ায় শ্রমবাজার খুলতে মানবপাচার মামলা প্রত্যাহারের শর্ত

মালয়েশিয়ায় শ্রমিক পাঠানোক কেন্দ্র করে চলমান মামলা ও চলমান তদন্ত নিষ্পত্তির শর্তে পুন:রায় শ্রমবাজার খুলে দেওয়ার কথা বলেছে মালয়েশিয়া। বৃহস্পতিবার দেশটির রাজধানী পূত্রজায়ায় বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠক শেষে যৌথ ঘোষণা পত্রে এই শর্তের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

ঘোষণাপত্রে বলা হয়, পুত্রজায়ায় এক সৌহার্দ্যপূর্ণ ও গঠনমূলক পরিবেশে বাংলাদেশ এবং মালয়েশিয়া সরকারের মধ্যে শ্রম অভিবাসন বিষয়ে একটি দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে মালয়েশিয়ার প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন দেশটির মানবসম্পদ মন্ত্রী দাতোশ্রী রামানান রামাকৃষ্ণ এবং বাংলাদেশের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রী এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী। তার সঙ্গে ছিলেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন।

সভা শেষে যৌথ ঘোষণাপত্রে ৭টি বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়া শ্রম অভিবাসনে তাদের দীর্ঘস্থায়ী এবং পরস্পরের লাভজনক অংশীদারিত্বের বিষয়টি পুনর্ব্যক্ত করা হয়েছে। একটি স্বচ্ছ, অন্তর্ভুক্তিমূলক, বাস্তবসম্মত কাঠামোর মাধ্যমে সহযোগিতা জোরদার করে নিয়োগসংক্রান্ত প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করার পাশাপাশি নিরাপদ, সুশৃঙ্খল ও নিয়মিত অভিবাসন নিশ্চিত করবে।

উভয় পক্ষ মালয়েশিয়ার খাতভিত্তিক চাহিদার ওপর নির্ভর করে বাংলাদেশী কর্মীদের জন্য শ্রম বাজার পুন:রায় খোলার প্রক্রিয়া দ্রুত বাস্তবায়ন করবে। ইতোমধ্যে একটি ন্যায্য, নৈতিক ও স্বচ্ছ নিয়োগ প্রক্রিয়া নিশ্চিত করতে উভয়পক্ষ সম্মত হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে মধ্যস্থতাকারী ও অভিবাসন খরচ কমানোর জন্য কাঠামোগত প্রতিবন্ধকতা দূর করা, বিশ্বাসযোগ্য ও যোগ্যনিয়োগকারী সংস্থা (রিক্রুটিং এজেন্সি) মাধ্যমে শ্রমিক পাঠানো এবং আটকে পড়া কর্মীদের নিয়োগ প্রক্রিয়া দ্রুত সম্পন্ন করা।

ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, মালয়েশিয়ার পক্ষ থেকে সকল সোর্স কান্ট্রির জন্য প্রযোজ্য একটি ডিজিটাল ও এআই ভিত্তিক নিয়োগ ব্যবস্থা চালুর কথা জানানো হয়। যার লক্ষ্য হচ্ছে দালালদের দৌরাত্ম ও অভিবাসন খরচ কমানো এবং নিয়োগকর্তারাই যেন নিয়োগের সম্পূর্ণ খরচ বহন করেন সেটা নিশ্চিত করা। এর ফলে বাংলাদেশী শ্রমিকদের মালয়েশিয়ায় কাজ পেতে কোনো খরচ থাকবে না।

আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (আইএলও)- এর নির্দেশনা অনুযায়ী ‘নিয়োগকর্তাই পরিশোধ করবেন’ নীতির অংশ। বাংলাদেশের পক্ষ থেকে অন্যান্য সকল প্রেরণকারী দেশকে সম্পৃক্ত করে একটি বৈশ্বিক উদ্যোগ হিসেবে এই ধরনের ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বাস্তবায়নে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করা হয়।

উভয় পক্ষ শ্রমিক নিয়োগে মানব পাচার সংক্রান্ত চলমান মামলাগুলো নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। মালয়েশিয়া পক্ষ তাদের আন্তর্জাতিক সুনামকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে এমন যে কোনো ভিত্তিহীন বা বিদ্বেষপূর্ণ কর্মকাণ্ড বন্ধের ওপর জোর দিয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ পক্ষ আইনের শাসন, যথাযথ প্রক্রিয়া, জবাবদিহিতা এবং সময়োপযোগী বিচার নিশ্চিত করার কথা জানিয়েছে।

ঘোষণাপত্রে আরও বলা হয়েছে, উভয় পক্ষ অনুমোদনহীন কর্মীদের প্রতিবন্ধকতা মোকাবেলা এবং শ্রম সরবরাহকে বাজারের চাহিদার সঙ্গে আরও সুচারুভাবে সমন্বয় ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে দক্ষতা উন্নয়ন, প্রশিক্ষণ, সনদপত্র দেওয়া এবং তথ্য আদান-প্রদানে সহযোগিতা বাড়াবে।

বাংলাদেশ ও মালয়েশিয়ার মধ্যে ২০২১ সালের ১৯ ডিসেম্বর স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক অনুযায়ী ২০২২-২৪ মেয়াদে ১০১টি রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে ৪ লাখ ৭৬ হাজার ৬৭২ জন শ্রমিক পাঠানো হয়। ২০২৪ সালের ১ জুন মালয়েশিয়া সরকার সব সোর্স কান্ট্রি থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ রাখে।

সম্প্রতি বাংলাদেশ ছাড়া ফের সব সোর্স কান্ট্রি থেকে কর্মী নিয়োগ শুরু করেছে দেশটি। কিন্তু বাংলাদেশে ব্যবসায়ীদের বিবদমান দুই পক্ষের বিরোধের কারণে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলা সম্ভব হয়নি। এখন মন্ত্রী ও উপদেষ্টার সফরে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার খোলার আশা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments