কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বালারহাট বাজারে মাদক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে দ্বিতীয় দিনের মতো মাদকের বিরুদ্ধে গণমিছিল ও পথসভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

রবিবার (২৮ জুন) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে বালারহাট বাজার এলাকায় আয়োজিত এ গণমিছিলে স্থানীয় ব্যবসায়ী, শিক্ষক, অভিভাবক, যুবসমাজসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ অংশ নেন।
গণমিছিলটি বালারহাট বাজারের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এ সময় অংশগ্রহণকারীরা মাদকের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সচেতনতামূলক স্লোগান দেন এবং সমাজ থেকে মাদকের বিস্তার রোধে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
গণমিছিল শেষে ফুলবাড়ী যাওয়া সড়কে পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য অলিউর রহমান নয়নেন সঞ্চালনায় বক্তব্য রাখেন কমিটির আহবায়ক ও নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এবং সাবেক চেয়ারম্যান মুসাব্বের আলী মুসা
তিনি তার বক্তব্যে জানান, মাদক শুধু একজন ব্যক্তিকে নয়, একটি পরিবার ও সমাজকেও ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেয়। তাই মাদকের ভয়াবহতা সম্পর্কে জনসচেতনতা সৃষ্টি এবং তরুণ সমাজকে মাদক থেকে দূরে রাখতে ধারাবাহিকভাবে এ ধরনের কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়া হবে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের একতাবদ্ধ হয়ে মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলার দাবী জানিয়েছেন।
এর আগে রবিবার (২৮ জুন) বিকালে মাদক প্রতিরোধ কমিটির উদ্যোগে একই ইউনিয়নের কুরুষাফেরুষা মহাসিনের বাজার ও গজেরকুটি খলিশাকোঠাল এলাকার বাদশা বাজারের মাদকের বিরুদ্ধে ঘন্টা ব্যাপী মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

এসময় উপস্থিত ছিলেন নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মজিবর রহমান মজি, নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার,বালারহাট আদর্শ স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মনিরুজ্জামান সরকার, পশ্চিম ফুলমতি উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আজিজার রহমান, ফুলবাড়ী আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক গোলাম মোর্শেদ, নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি মোশাররফ হোসেন নুলু, মাদক প্রতিরোধ কমিটির সদস্য ও সহকারী শিক্ষক রফিকুল ইসলাম, সোহেল হোসেন, ছাত্রদলের সাবেক নেতা রেজাউল ইসলাম রেজা, সহকারী শিক্ষক জয়নাল আবেদীন ও সাবেক ইউপি সদস্য আমিন ইসলামসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
গত দুইদিনে নাওডাঙ্গা ইউনিয়ন মাদক প্রতিরোধ কমিটির মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধমুলক কর্মসূচি অব্যাহত ভাবে চালিয়ে যাওয়ায় স্থানীয়রা কমিটির এ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে বলেন, নিয়মিত গণসচেতনতামূলক কর্মসূচি পরিচালিত হলে মাদক নিয়ন্ত্রণে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে এবং তরুণ প্রজন্মকে মাদকের করাল গ্রাস থেকে রক্ষা করা সম্ভব হবে।



