অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, অতীতের আইএমএফ ঋণ কর্মসূচির পরিবর্তে দেশের জনস্বার্থ ও অর্থনৈতিক নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সঙ্গে নতুন ঋণ কর্মসূচি নেওয়া হবে। একই সঙ্গে দেশের ভিসানীতি আরও সহজ ও আধুনিক করার কথাও জানিয়েছেন তিনি।
রোববার সচিবালয়ে আইএমএফের প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে অর্থমন্ত্রী এসব কথা বলেন। নতুন ঋণ কর্মসূচি নিয়ে প্রাথমিক আলোচনা শুরু করতে ১২ সদস্যের আইএমএফ প্রতিনিধি দল বর্তমানে ঢাকা সফর করছে।
অর্থমন্ত্রী বলেন, দেশের মানুষের স্বার্থ ক্ষুণ্ন করে আইএমএফের কোনো কর্মসূচিতে সরকার অংশ নেবে না। জনস্বার্থ ও দেশের অর্থনৈতিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করেই নতুন কর্মসূচি চূড়ান্ত করা হবে।
তিনি বলেন, আগের সরকারের সময়ে আইএমএফের সঙ্গে করা ঋণ কর্মসূচিতে এমন অনেক শর্ত ছিল, যা একটি নির্বাচিত সরকারের জন্য বাস্তবায়নযোগ্য ছিল না। বর্তমান সরকার সেই কর্মসূচি থেকে সরে এসে নতুন বাস্তবতার আলোকে আলোচনা করছে। সরকারের মূল লক্ষ্য ঋণ গ্রহণ নয়, বরং দেশের অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষা করা।
উল্লেখ্য, ২০২৩ সালে বাংলাদেশ আইএমএফের সঙ্গে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ঋণচুক্তি করে। পরে ২০২৫ সালে এর পরিমাণ বাড়িয়ে ৫ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার করা হয়। এ পর্যন্ত পাঁচ কিস্তিতে বাংলাদেশ ৩ দশমিক ৬৪ বিলিয়ন ডলার পেয়েছে। শর্ত পূরণ না হওয়ায় ষষ্ঠ কিস্তির অর্থ ছাড় স্থগিত রয়েছে। এর পরিবর্তে নতুন ঋণ কর্মসূচির আওতায় আগামী তিন বছরে ৪ থেকে ৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সহায়তা পাওয়ার আশা করছে সরকার।
এদিকে নতুন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনার অংশ হিসেবে আইএমএফ প্রতিনিধি দল রোববার সকালে বাংলাদেশ ব্যাংকের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করে। পরে অর্থ মন্ত্রণালয়ে অর্থমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে দেশের চলমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, সংস্কার কার্যক্রম এবং আন্তর্জাতিক আর্থিক সহযোগিতার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বৈঠক শেষে অর্থমন্ত্রী বলেন, যেকোনো নতুন কর্মসূচিতে বাংলাদেশের জনগণের স্বার্থ শতভাগ সুরক্ষিত থাকবে। অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনায় প্রয়োজনীয় সংস্কার করা হবে, তবে তা জনস্বার্থবিরোধী হবে না।
এ সময় তিনি আরও জানান, দেশের অর্থনৈতিক গতিশীলতা বাড়ানো এবং বিদেশি বিনিয়োগ ও পর্যটন আকৃষ্ট করতে বর্তমান ভিসানীতিতে পরিবর্তন আনা হবে। ভিসা প্রক্রিয়া আরও সহজ, দ্রুত ও আধুনিক করা হলে বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আস্থা বাড়বে এবং আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে বাংলাদেশের গ্রহণযোগ্যতা আরও শক্তিশালী হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।



