সাম্প্রতিক বন্যায় চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম ও যোগাযোগব্যবস্থায় সৃষ্ট সংকট নিরসন এবং বন্দরে আটকে থাকা কনটেইনার ও পণ্যের ডেমারেজসহ সংশ্লিষ্ট চার্জ নির্ধারিত সময়ের জন্য সম্পূর্ণ বা আংশিক মওকুফের দাবিতে ৯ দফা প্রস্তাব দিয়েছে দেশের শীর্ষ চার ব্যবসায়ী সংগঠন।
রোববার বাংলাদেশ গার্মেন্টস ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ), বাংলাদেশ নিটওয়্যার ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিকেএমইএ), বাংলাদেশ টেক্সটাইল মিলস অ্যাসোসিয়েশন (বিটিএমএ) এবং চট্টগ্রাম চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (সিসিসিআই) পক্ষ থেকে নৌপরিবহনমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম, এমপির কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এসব দাবি জানানো হয়।
বিজিএমইএ সভাপতি মাহমুদ হাসান খান, বিকেএমইএ সভাপতি মোহাম্মদ হাতেম, বিটিএমএ সভাপতি শওকত আজিজ রাসেল এবং চট্টগ্রাম চেম্বারের সভাপতি মোহাম্মদ আমিরুল হক স্বাক্ষরিত চিঠিতে চট্টগ্রাম বন্দর ও এর সঙ্গে যুক্ত সড়ক এবং রেল যোগাযোগ দ্রুত সচল করে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রমে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
এ ছাড়া বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, সংশ্লিষ্ট সরকারি সংস্থা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে ক্ষতিগ্রস্ত পণ্য ও প্রতিষ্ঠানের ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণে বিশেষ মূল্যায়ন কমিটি গঠন, বন্যার কারণে বন্দরে আটকে থাকা কনটেইনার ও পণ্যের ডেমারেজ, ডিটেনশন, পোর্ট রেন্ট, স্টোরেজ, শেড, ইয়ার্ড ও অন্যান্য শিপিং চার্জ নির্দিষ্ট সময়ের জন্য সম্পূর্ণ বা আংশিক মওকুফ, প্রয়োজনীয় পণ্যের দ্রুত কাস্টমস ক্লিয়ারেন্স, ক্ষতিগ্রস্ত শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও ব্যবসায়ীদের জন্য স্বল্পসুদে পুনঃঅর্থায়ন এবং কার্যকর মূলধন ঋণের ব্যবস্থা, ঋণের কিস্তি ও সুদ পরিশোধে সময় বৃদ্ধি, এলসি ও আমদানি-রপ্তানিসংক্রান্ত সময়সীমা শিথিল এবং ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠানের জন্য বিশেষ প্রণোদনা তহবিল গঠনের দাবি জানানো হয়।
চিঠিতে আরও বলা হয়, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, অর্থ মন্ত্রণালয়, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), বাংলাদেশ ব্যাংক, চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ, কাস্টমস, বাংলাদেশ রেলওয়ে, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর এবং ব্যবসায়ী সংগঠনের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে একটি উচ্চপর্যায়ের আন্তঃমন্ত্রণালয় টাস্কফোর্স গঠন করা প্রয়োজন।
ব্যবসায়ী নেতারা উল্লেখ করেন, গত ৫ জুলাই থেকে টানা ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যার কারণে চট্টগ্রাম বন্দরের বিভিন্ন ইয়ার্ড এবং বেসরকারি কনটেইনার ডিপোতে পানি ঢুকে বিপুল পরিমাণ আমদানি ও রপ্তানি পণ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। একই সঙ্গে কনটেইনার দীর্ঘ সময় আটকে থাকায় আমদানিকারক ও রপ্তানিকারকদের অতিরিক্ত ডেমারেজ, ডিটেনশন, স্টোরেজ ও অন্যান্য চার্জ বহন করতে হচ্ছে।
চিঠিতে ১০ জুলাই চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের জারি করা বিজ্ঞপ্তিরও সমালোচনা করা হয়। এতে ক্ষতিপূরণসংক্রান্ত যেকোনো দাবি প্রত্যাখ্যানের অবস্থানকে একতরফা সিদ্ধান্ত আখ্যা দিয়ে বলা হয়, অবকাঠামোগত দুর্বলতা বা ব্যবস্থাপনাগত ত্রুটির কারণে পণ্যের ক্ষতি হয়ে থাকলে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে দায় নির্ধারণ এবং ক্ষতিগ্রস্তদের ন্যায্য প্রতিকার নিশ্চিত করা উচিত। অন্যথায় দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর হিসেবে চট্টগ্রাম বন্দরের সুনাম ও ব্যবহারকারীদের আস্থা ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
চিঠিতে অতীতের নজির তুলে ধরে বলা হয়, দুর্যোগকালীন সময়ে বাংলাদেশ ব্যাংক ক্ষতিগ্রস্ত উদ্যোক্তাদের ঋণের কিস্তি পরিশোধে সময় বৃদ্ধি ও জরিমানাসহ বিভিন্ন নীতিগত সহায়তা দিয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতেও একই ধরনের সহায়তা প্রদান ব্যবসা-বাণিজ্য ও শিল্প খাতের ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে কার্যকর ভূমিকা রাখবে।



