আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারি এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জুন মাসে নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে সরকার। একই সঙ্গে শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এমপিওবিহীন ডিগ্রি কলেজ পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করা এবং প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের দ্রুত পদোন্নতি দেওয়ার কথাও জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহছানুল হক মিলন।
মঙ্গলবার জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান ও মো. গোলাম রছুলের পৃথক প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী এসব তথ্য জানান। এ সময় ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার শিক্ষাবর্ষকে সময়োপযোগী ও আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচি পুনর্বিন্যাসের উদ্যোগ নিয়েছে। এ লক্ষ্যে আগামী শিক্ষাবর্ষ থেকে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জানুয়ারিতে এবং এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা জুন মাসে নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এ সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে ধাপে ধাপে শিক্ষাবর্ষের শুরু ও পাবলিক পরীক্ষার সময়সূচির মধ্যে সামঞ্জস্য আসবে। একই সঙ্গে শিক্ষার্থীদের একাডেমিক সময়ের অপচয় কমবে। ভবিষ্যতে পাবলিক পরীক্ষা আরও সুশৃঙ্খলভাবে আয়োজনের লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে।
এমপিওবিহীন ডিগ্রি কলেজ প্রসঙ্গে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, এসব প্রতিষ্ঠানের এমপিওভুক্তির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী শর্ত পূরণ সাপেক্ষে এমপিওবিহীন ডিগ্রি কলেজগুলোকে পর্যায়ক্রমে এমপিওভুক্ত করার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এ-সংক্রান্ত উচ্চ আদালতের মামলা সম্প্রতি নিষ্পত্তি হয়েছে। ফলে খুব শিগগিরই প্রধান শিক্ষকদের পদোন্নতি দেওয়া হবে। এতে প্রধান শিক্ষক পদে বিদ্যমান শূন্যপদ পূরণ হবে।
এদিকে শিক্ষামন্ত্রী জানান, পাবলিক পরীক্ষার সময় দীর্ঘদিন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখতে হওয়ায় নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হয় এবং শিক্ষার মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এ সমস্যা সমাধানে মাধ্যমিক, উচ্চমাধ্যমিক ও বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ের বিভিন্ন পাবলিক পরীক্ষার জন্য পৃথক ও স্থায়ী পরীক্ষা কেন্দ্র নির্মাণের পরিকল্পনা করছে সরকার। এতে শিক্ষা কার্যক্রম সচল রেখেই পরীক্ষা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।



