কিছু বিচ্ছিন্ন ঘটনাকে কেন্দ্র করে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনীর বিরুদ্ধে একটি স্বার্থান্বেষী মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছে বাহিনীটি। সদস্যদের বক্তব্য বিকৃত করে এবং ঘটনার প্রকৃত তথ্য আড়াল করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও কিছু গণমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলেও দাবি করা হয়েছে।
গতকাল শুক্রবার এক বিজ্ঞপ্তিতে বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, এ ধরনের অপপ্রচার তাদের নজরে এসেছে এবং বাহিনী এসব কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে আপোসহীন অবস্থানে রয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নেতিবাচক প্রচারণার মধ্যেও মাঠপর্যায়ে আনসার সদস্যদের দায়িত্ব পালন, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বে কোনো ঘাটতি তৈরি হয়নি। বরং বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও জননিরাপত্তায় দায়িত্ব পালনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের আস্থা ও বিশ্বাস আরও বাড়ছে।
এর উদাহরণ হিসেবে বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) স্টেডিয়াম ও স্থাপনাগুলোর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার দায়িত্ব আনসার বাহিনীকে দেওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সম্প্রতি একটি ব্রডকাস্টে বিসিবি পরিচালক সৈয়দ ইব্রাহিম আহমেদ আনসার সদস্যদের সক্ষমতা ও দায়িত্ব পালনের প্রশংসা করেছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে নাটোরের বাগাতিপাড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ঘটে যাওয়া একটি ঘটনার ব্যাখ্যাও দেওয়া হয়।
এতে বলা হয়, গত ১২ জুলাই হাসপাতালের সংরক্ষিত স্থানে নিয়মবহির্ভূতভাবে একটি মোটরসাইকেল রাখাকে কেন্দ্র করে ওই ঘটনার সূত্রপাত হয়। দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্য নির্ধারিত স্থানে মোটরসাইকেল রাখার অনুরোধ করলেও ওই ব্যক্তি তা অমান্য করেন। পরে বিষয়টি নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও উপজেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ঘটনার সমাধান হয় এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি আনসার সদস্যদের কাছে দুঃখ প্রকাশ করেন।
বাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়, চিকিৎসকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দেশের ৫০০টি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ৫ হাজার আনসার সদস্য চিকিৎসক, হাসপাতাল ও সেবাগ্রহীতাদের নিরাপত্তায় দায়িত্ব পালন করছেন।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও দাবি করা হয়, চোর, ছিনতাইকারী, মাদক ব্যবসায়ী ও দালাল চক্রের স্বার্থে কিছু ব্যক্তি ও ভিউনির্ভর প্রচারমাধ্যম একটি সুশৃঙ্খল বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন করার চেষ্টা করছে। তবে জনগণ এসব অপপ্রচার প্রত্যাখ্যান করেছে বলে উল্লেখ করা হয়।
বাংলাদেশ আনসার ও গ্রাম প্রতিরক্ষা বাহিনী জানায়, দেশের গুরুত্বপূর্ণ সরকারি-বেসরকারি স্থাপনার নিরাপত্তা, হাসপাতাল সুরক্ষা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় তাদের সদস্যরা দায়িত্ব পালন করে আসছেন। সব ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে দেশ ও মানুষের সেবায় নিয়োজিত থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে বাহিনীটি।



