রাজশাহীতে যথাযোগ্য মর্যাদা ও নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে জাতীয় জুলাই শহীদ দিবস পালিত হয়েছে।বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সকালে নগরীর সিঅ্যান্ডবি মোড়ে অবস্থিত ‘জুলাই শহীদ স্মৃতিস্তম্ভে’ রাজশাহী সিটি করপোরেশনের (রাসিক) পক্ষ থেকে পুষ্পস্তবক অর্পণ করা হয়। এ সময় জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান রাসিক প্রশাসক মাহফুজুর রহমান রিটন।
পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে তিনি জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন এবং আহত জুলাই যোদ্ধাদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
এ ছাড়া রাজশাহী সিটি করপোরেশন কর্মচারী ইউনিয়নের পক্ষ থেকেও স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করা হয়। এতে রাসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রেজাউল করিম, কর্মচারী ইউনিয়নের সভাপতি মো. সাকিলসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা উপস্থিত ছিলেন।
পরে বাদ জোহর জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত, আহতদের সুস্থতা এবং দেশ ও জাতির শান্তি, সমৃদ্ধি ও উন্নয়ন কামনায় নগরীর সোনাদিঘীসহ বিভিন্ন মসজিদে দোয়া ও বিশেষ মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে সুবিধাজনক সময়ে মন্দির, গির্জা ও প্যাগোডায় বিশেষ প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।
এদিকে সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলামের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথি ছিলেন বিভাগীয় কমিশনার এ.এন.এম. বজলুর রশীদ।
সভায় জুলাই আন্দোলনে শহীদ আলী রায়হানের বাবা মুসলিম উদ্দিন ছেলের স্মৃতিচারণ করে বলেন, “আমার একমাত্র ছেলে চাকরি পেলে আমাকে হজে পাঠানোর কথা বলেছিল। কিন্তু তার সেই স্বপ্ন আর পূরণ হলো না।”
শহীদ মিনারুল ইসলামের স্ত্রী নূরে ইসলাম খাতুন বলেন, “আমার স্বামী দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন। তাঁর আত্মত্যাগ জাতি চিরদিন শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করবে।” তিনি শহীদ পরিবারের পাশে রাষ্ট্র ও সমাজকে থাকার আহ্বান জানান।
আলোচনা সভায় জুলাই যোদ্ধা ফরিদুল ইসলাম, আল মামুন ও নাহিদুল ইসলাম সজু আন্দোলনের স্মৃতিচারণ করেন। তারা শহীদদের আদর্শ ধারণ করে বৈষম্যহীন, ন্যায়ভিত্তিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার আহ্বান জানান।
সভায় জামায়াতে ইসলামী, এনসিপি, বিএনপি, রাজশাহী বার সমিতি, গণঅভ্যুত্থান পরিষদ, রাজশাহী প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দ, বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তা এবং সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানের শেষে জুলাই শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত অনুষ্ঠিত হয়।



