গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে সরকার-বিরোধী দল একসঙ্গে কাজ করবে: মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রী

মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রী আহমেদ আযম খান বলেছেন, সরকার ও বিরোধী দল মিলে দেশে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চায়। একই সঙ্গে জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার অক্ষরে অক্ষরে বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) জাতীয় জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে রংপুর নগরীর জুলাই চত্বরে জুলাই স্তম্ভে পুষ্পস্তবক অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।

মন্ত্রী বলেন, “দুই বছর আগে এই দিনে জুলাই আন্দোলনে রংপুরের কৃতি সন্তান আবু সাঈদ পুলিশের গুলিতে শহীদ হন। তাঁর আত্মত্যাগকে সম্মান জানিয়ে সরকার ১৬ জুলাইকে ‘জাতীয় জুলাই শহীদ দিবস’ ঘোষণা করেছে। আজ সারাদেশের মতো রংপুরেও দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হচ্ছে।”

তিনি বলেন, “আমরা সরকারি দল ও বিরোধী দল মিলে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে চাই। একই সঙ্গে জুলাই সনদের প্রতিটি অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করতে চাই। জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করেই দেশকে একটি গণতান্ত্রিক, সমৃদ্ধ ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্রে পরিণত করার লক্ষ্য নিয়ে আমরা কাজ করছি।”

আহমেদ আযম খান বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ আবু সাঈদ, ওয়াসিম আকরামসহ অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ সুগম হয়েছে। সেই আত্মত্যাগের যথাযথ মূল্যায়ন করতে সরকার জুলাইয়ের চেতনাকে রাষ্ট্রীয়ভাবে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিয়েছে।

পরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে শহীদ আবু সাঈদের স্মৃতিস্তম্ভে শ্রদ্ধা নিবেদন করেন মন্ত্রী। এরপর জুলাই গণঅভ্যুত্থানভিত্তিক আলোকচিত্র প্রদর্শনী পরিদর্শন করেন।

এ সময় সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য অ্যাডভোকেট রেজেকা সুলতানা ফেন্সি, রংপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসক অ্যাডভোকেট মাহফুজ উন নবী ডন, রংপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান সামসুজ্জামান সামু, বিভাগীয় কমিশনার মো. শহিদুল ইসলাম, রংপুর রেঞ্জের ডিআইজি আমিনুল ইসলাম, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. শওকাত আলী এবং শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন উপস্থিত ছিলেন।

‘ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন হবে জুলাইয়ের সব অঙ্গীকার’

দুপুরে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে জাতীয় জুলাই শহীদ দিবস উপলক্ষে আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী বলেন, “সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর মাত্র পাঁচ মাস হয়েছে। আমরা প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি, ধাপে ধাপে জুলাইয়ের সব অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা হবে।”

তিনি জানান, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘জুলাই অধিদপ্তর’ প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। এ অধিদপ্তরের মাধ্যমে জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত বিভিন্ন কর্মসূচি ও প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করা হবে।

মন্ত্রী বলেন, “যে দলই রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে আসুক, তাকে জুলাইয়ের চেতনা ধারণ করতে হবে। মনে রাখতে হবে, আমরা ক্ষমতায় আসিনি; দায়িত্ব নিতে এসেছি। আমরা শাসক নই, জনগণের সেবক।”

তিনি আরও বলেন, সরকার আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা, দুর্নীতির বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স এবং রাষ্ট্রীয় সম্পদের সুষ্ঠু ব্যবহারে কাজ করছে। একই সঙ্গে সবাইকে রাষ্ট্রীয় সম্পদ রক্ষায় দায়িত্বশীল হওয়ার আহ্বান জানান।

রংপুরের উন্নয়নের বিষয়ে তিনি বলেন, “রংপুর আর বঞ্চিত থাকবে না। এ অঞ্চলে শিল্পায়ন, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অবকাঠামোগত উন্নয়নে সরকার পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে।”

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি জানান, শহীদ আবু সাঈদের নামে আবাসিক হল, প্রবেশদ্বারসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নির্মাণ এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্বিক উন্নয়নে পর্যায়ক্রমে উদ্যোগ নেওয়া হবে।

অনুষ্ঠানে শহীদ আবু সাঈদের বাবা মো. মকবুল হোসেন রংপুরে শিল্পায়ন ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির দাবি জানান। এ বিষয়ে সরকার ইতিবাচকভাবে বিষয়টি বিবেচনা করছে বলে আশ্বস্ত করেন মুক্তিযুদ্ধমন্ত্রী।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments