হালাল সনদ নিতে ঘুষ দাবি

বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) থেকে হালাল সনদ নিতে গিয়ে ঘুষের দাবি করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের দাবি, রপ্তানির পরিমাণ অনুযায়ী গাড়ি ও টাকা দাবি করা হয়।

শনিবার রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই) আয়োজিত ‘রপ্তানি বহুমুখীকরণে হালাল’ শীর্ষক কর্মশালায় এ অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। কর্মশালায় সভাপতিত্ব করেন বিসিআই সভাপতি আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ)। এতে সম্মানিত অতিথি ছিলেন রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ। সমাপনী বক্তব্য দেন বিসিআইর সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট প্রীতি চক্রবর্তী।

কর্মশালায় বিসিআই পরিচালক ও ইজি ফুডের চেয়ারম্যান জিয়া হায়দার অভিযোগ করে বলেন, “বিএসটিআই থেকে হালাল সনদ নিতে গেলে বলা হয়, গাড়ি দাও, টাকা দাও। কত টন রপ্তানি হবে, সে অনুযায়ী চাঁদা দিতে হবে।” তিনি বলেন, এ ধরনের অনিয়মের কারণে বিদেশি ক্রেতারা অনেক সময় শুধু পণ্যের গায়ে ‘হালাল’ লিখে দিতে বলেন। তাঁর মতে, এ ধরনের সনদের প্রয়োজনীয়তা থাকলেও তা ব্যবসাবান্ধব ও বিনামূল্যে দেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করা উচিত।

একই ধরনের অভিযোগ তুলে বোম্বে সুইটস লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক খুরশীদ আহমদ ফারহাদ বলেন, একটি হালাল সনদ পেতে আগে ১৬ থেকে ১৮ লাখ টাকা পর্যন্ত ব্যয় হতো, বর্তমানে কিছুটা কমেছে। তবে বাংলাদেশের হালাল সনদ সৌদি আরবে গ্রহণযোগ্য নয়। কারণ, সৌদি আরবের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো স্বীকৃতি চুক্তি নেই। ফলে প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারত, থাইল্যান্ড ও সিঙ্গাপুর থেকে সনদ নিতে হচ্ছে।

সভাপতির বক্তব্যে আনোয়ার-উল আলম চৌধুরী (পারভেজ) বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশের হালাল পণ্য রপ্তানির পরিমাণ প্রায় ৮৫ কোটি মার্কিন ডলার। অথচ ২০২৫ সালে বৈশ্বিক হালাল বাজারের আকার ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৩ ট্রিলিয়ন ডলার, যা ২০৩৪ সালে বেড়ে ৯ দশমিক ৪৫ ট্রিলিয়ন ডলারে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম মুসলিম জনগোষ্ঠীর দেশ হিসেবে বাংলাদেশের একটি শক্তিশালী হালাল ব্র্যান্ডিং গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি আরও বলেন, বর্তমানে ইসলামিক ফাউন্ডেশন ও বিএসটিআই পৃথকভাবে হালাল সনদ দেওয়ায় ব্যবসায়ীদের ব্যয় ও জটিলতা বাড়ছে। তাই একক কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে সনদ প্রদানের ব্যবস্থা করা উচিত।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ হাসান আরিফ বলেন, বাংলাদেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে বৈশ্বিক হালাল বাজারে যুক্ত করতে সরকার কাজ করছে। আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলায় অংশগ্রহণে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। তবে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয়ের ঘাটতি একটি বড় চ্যালেঞ্জ। এ বিষয়ে সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন।

কর্মশালায় বক্তারা হালাল সনদ প্রদানের প্রক্রিয়া একীভূত করা, আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পরীক্ষাগার (ল্যাব) সক্ষমতা বৃদ্ধি, বেসরকারি খাতে আধুনিক ল্যাব স্থাপনের সুযোগ সৃষ্টি এবং মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, থাইল্যান্ড, দক্ষিণ কোরিয়া, সিঙ্গাপুর ও চীনের সফল অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে বাংলাদেশের হালাল শিল্পের বিকাশে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করেন।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments