জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্য ঠেকাতে ট্রাম্প প্রশাসনের পদক্ষেপ; বাংলাদেশের রপ্তানি, বিশেষ করে পোশাক খাতে চাপের আশঙ্কা
জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের আমদানি প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ না নেওয়ার অভিযোগে বাংলাদেশসহ বিশ্বের ৬০টি বাণিজ্য অংশীদার দেশের পণ্যের ওপর নতুন করে অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া এ সিদ্ধান্তে বাংলাদেশের পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক বসানো হয়েছে। ফলে দেশের রপ্তানিনির্ভর শিল্প, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন বৈশ্বিক বাণিজ্যব্যবস্থা পুনর্গঠনের অংশ হিসেবে এ পদক্ষেপ নিয়েছে। হোয়াইট হাউজের ভাষ্য অনুযায়ী, যেসব দেশ জোরপূর্বক শ্রমে উৎপাদিত পণ্যের বাণিজ্য রোধে যুক্তরাষ্ট্রের মতো কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি, সেসব দেশের ওপর এই অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
ফেডারেল রেজিস্টারে প্রকাশিত বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নতুন শুল্ক যুক্তরাষ্ট্রে আমদানি হওয়া প্রায় ৯৯ দশমিক ৪ শতাংশ পণ্যের ওপর প্রযোজ্য হবে। তবে জ্বালানি তেল ও গ্যাস, সার, কিছু খাদ্যপণ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তাসংশ্লিষ্ট কয়েকটি পণ্য এ সিদ্ধান্তের বাইরে রাখা হয়েছে।
বাংলাদেশের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক
চূড়ান্ত তালিকায় বাংলাদেশের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা, যুক্তরাজ্য, কম্বোডিয়া, কানাডা, একুয়েডর, এল সালভাদর, গুয়াতেমালা, হন্ডুরাস, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, জর্ডান, মালয়েশিয়া, মেক্সিকো, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও ত্রিনিদাদ অ্যান্ড টোবাগোর পণ্যের ওপর ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে ইউরোপীয় ইউনিয়ন, তাইওয়ান, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সুইজারল্যান্ডের ক্ষেত্রে বিদ্যমান ‘মোস্ট-ফেভার্ড-নেশন (এমএফএন)’ শুল্কের সঙ্গে সমন্বয় করে মোট শুল্কহার ১০ অথবা ১২ দশমিক ৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
এ ছাড়া বাকি ৩৮টি দেশের পণ্যের ওপর ১২ দশমিক ৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছে। এ তালিকায় রয়েছে চীনও। যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ, দেশটিতে উইঘুর মুসলিম সংখ্যালঘুদের জোরপূর্বক শ্রমে নিয়োজিত করা হয়। যদিও বেইজিং দীর্ঘদিন ধরে এ অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
যেসব পণ্য শুল্কমুক্ত থাকবে
নতুন নীতিমালা অনুযায়ী জ্বালানি তেল ও গ্যাস, সার, কিছু খাদ্যপণ্য এবং জাতীয় নিরাপত্তার আওতায় আগে থেকেই পৃথক শুল্ক ব্যবস্থার অন্তর্ভুক্ত গাড়ি, ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও তামার মতো পণ্য অতিরিক্ত শুল্কের বাইরে থাকবে।
এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো-কানাডা বাণিজ্য চুক্তি (ইউএসএমসিএ)-এর শর্ত পূরণকারী পণ্যও নতুন শুল্কের আওতায় পড়বে না। উত্তর আমেরিকার সমন্বিত সরবরাহব্যবস্থা এবং এসব পণ্যে উচ্চমাত্রায় মার্কিন উপাদান ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় রেখেই এ ছাড় দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশের জন্য কী প্রভাব?
বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান রপ্তানি বাজার যুক্তরাষ্ট্র। দেশের মোট রপ্তানি আয়ের বড় অংশই আসে তৈরি পোশাক খাত থেকে। নতুন ১০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক কার্যকর হওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে বাংলাদেশি পণ্যের মূল্য প্রতিযোগিতা কমে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এ পরিস্থিতিতে শ্রম অধিকার নিশ্চিত করা, সরবরাহ শৃঙ্খলে স্বচ্ছতা বৃদ্ধি এবং জোরপূর্বক শ্রম প্রতিরোধে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড আরও কঠোরভাবে অনুসরণ করা বাংলাদেশের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে। একই সঙ্গে রপ্তানি বাজার বহুমুখীকরণ এবং উচ্চমূল্যের পণ্যে বিনিয়োগ বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তাও নতুন করে সামনে এসেছে।



