দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া বিভিন্ন ব্র্যান্ডের ২৬ ধরনের টুথপেস্টে ক্ষতিকর মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতির অভিযোগের ঘটনায় তদন্ত চেয়ে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মো. আবদুল্লাহ আল মামুন এ রিট দায়ের করেন। রিটে স্বাস্থ্য সচিব, পরিবেশ সচিব, বাণিজ্য সচিব, বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) এবং জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরকে বিবাদী করা হয়েছে।
বিচারপতি খিজির আহমেদ চৌধুরী ও বিচারপতি মো. জিয়াউল হকের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চে এ আবেদনের শুনানি হতে পারে বলে জানা গেছে।
রিটে দেশের বাজারে বিক্রি হওয়া টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি, এর ক্ষতিকর প্রভাব এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের ভূমিকা তদন্তের নির্দেশনা চাওয়া হয়েছে।
রিট আবেদনে একটি গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, বাংলাদেশে পরীক্ষিত ৩৪টি টুথপেস্টের মধ্যে ২৬টিতে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। প্রতি ১০০ গ্রাম টুথপেস্টে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার সংখ্যা ২০ থেকে ৩২০টি পর্যন্ত পাওয়া গেছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, শিশুদের জন্য তৈরি ছয়টি টুথপেস্টের মধ্যে চারটিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।
পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন বিষয়ক সংস্থা এনভায়রনমেন্ট অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (ইএসডিও)-এর এক গবেষণায় এসব তথ্য উঠে এসেছে বলে রিটে উল্লেখ করা হয়।
গবেষকদের মতে, টুথপেস্টে মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য সম্ভাব্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে এসব ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা মানুষের শরীরে প্রবেশ করলে কী ধরনের প্রভাব পড়তে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগ রয়েছে।
এ গবেষণা প্রতিবেদন ও সংশ্লিষ্ট তথ্যের ভিত্তিতেই হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন আবেদনকারী আইনজীবী।



