রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে জমছে লড়াই, মাঠে মির্জা ফখরুল ও অলি আহমদ

দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা বাড়ছে। ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট—দুই পক্ষ থেকেই রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী দেওয়ার প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়া হয়েছে।

সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ক্ষমতাসীন বিএনপির পক্ষ থেকে দলের মহাসচিব ও স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দলীয় একাধিক নেতা জানিয়েছেন। অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রাষ্ট্রপতি পদে লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদকে প্রার্থী ঘোষণা করেছে।

ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফখরুল

রাষ্ট্রপতি পদে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে বলে রোববার সন্ধ্যায় দলটির একাধিক নেতা জানিয়েছেন। দলীয় চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন বলে তারা জানান।

এর আগে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের জন্য নির্বাচন কমিশনের রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে দুটি মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করে বিএনপি। দলটির স্থায়ী কমিটি রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী নির্বাচনের দায়িত্ব দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে দেয়।

এর আগে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ছাড়াও স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. মঈন খান ও নজরুল ইসলাম খানের নাম রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনায় ছিল। তবে সর্বশেষ দলীয় সিদ্ধান্তে মির্জা ফখরুলের নামই সামনে এসেছে।

১১ দলীয় জোটের প্রার্থী অলি আহমদ

অন্যদিকে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট রোববার দুপুরে রাষ্ট্রপতি পদে তাদের প্রার্থী হিসেবে এলডিপির সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদের নাম ঘোষণা করেছে।

বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে অনুষ্ঠিত জোটের বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে বৈঠকে জোটের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে এনসিপির আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। পরে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে অংশগ্রহণমূলক ও প্রতিযোগিতামূলক করার লক্ষ্যেই তারা প্রার্থী দিয়েছেন। তার ভাষ্য, বিএনপি সংস্কারের পথে হাঁটলে ক্ষমতাসীন ও বিরোধী দল মিলে একক প্রার্থী দেওয়ার সুযোগ ছিল; কিন্তু তা হয়নি। ফলে ১১ দলীয় জোট আলাদা প্রার্থী দিয়েছে।

কারা কোন পক্ষের প্রার্থী?

রাজনৈতিক পক্ষরাষ্ট্রপতি প্রার্থীবর্তমান অবস্থান
ক্ষমতাসীন বিএনপিমির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরদলীয়ভাবে মনোনয়ন দেওয়ার সিদ্ধান্ত
জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটকর্নেল (অব.) অলি আহমদজোটের প্রার্থী ঘোষণা
এনসিপিঅলি আহমদের পক্ষে ১১ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তে অংশআলাদা প্রার্থী দেয়নি

ভোট হবে সংসদ সদস্যদের মাধ্যমে

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হন না। সংসদ সদস্যদের ভোটেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হন। নির্বাচন কমিশনের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনসংক্রান্ত আইন ও বিধিমালাও এ প্রক্রিয়ার আইনি কাঠামো নির্ধারণ করে।

ফলে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে শেষ পর্যন্ত কতজন প্রার্থী থাকছেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতা কতটা সরাসরি হচ্ছে—তা নির্ভর করবে মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের পর চূড়ান্ত প্রার্থী তালিকার ওপর।

বর্তমান পরিস্থিতিতে একদিকে ক্ষমতাসীন বিএনপির প্রার্থী হিসেবে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী হিসেবে কর্নেল (অব.) অলি আহমদ মাঠে থাকায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক আলোচনা আরও তীব্র হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা দেশের রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

RELATED ARTICLES

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisment -
Google search engine

সর্বাধিক পঠিত

Recent Comments